শীত এলেই ভারতের ঘরে ঘরে দেখা মেলে এক পরিচিত টুপির, মাঙ্কি ক্যাপ। দেখতে একেবারেই ফ্যাশনেবল নয়, বরং অনেকের বেশ হাস্যকর মনে হয়। তবুও বছরের পর বছর, শীতের দিনে এই টুপির ব্যবহার এতটুকু কমেনি। কিন্তু ফ্যাশনের তালিকায় না থেকেও কীভাবে মাঙ্কি ক্যাপ হয়ে উঠল ভারতীয় শীতের অবিচ্ছেদ্য অংশ? আসুন জেনে নেওয়া যাক এই টুপির অজানা ইতিহাস। 

মাঙ্কি ক্যাপের আসল নাম কী? আমরা যাকে মাঙ্কি ক্যাপ বলি, তার আসল নাম বালাক্লাভা। এই টুপির জন্ম উনিশ শতকে। ক্রিমিয়ান যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনারা তীব্র ঠান্ডা থেকে বাঁচতে এই ধরনের টুপি ব্যবহার করত। যুদ্ধক্ষেত্রের নাম থেকেই এই টুপির নামকরণ হয়। পরবর্তীকালে ম্যাঙ্কি ক্যাপ ইউরোপ পেরিয়ে ভারতে আসে। তবে এদেশে এসে এটি কখনও ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হয়ে ওঠেনি, বরং সাধারণ মানুষের শীতের প্রয়োজনীয় পোশাক হিসেবেই জায়গা করে নেয়।

কেন ভারতে এত জনপ্রিয় হল ম্যাঙ্কি ক্যাপ? আসলে এদেশের বেশিরভাগ জায়গায় শীত খুব কড়া না হলেও ভোরে কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস, রাতে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার মতো অবস্ছা দেখা দেয়। যার জন্য মাথা, কান ও গলা ঢাকার প্রয়োজন হয়। মাঙ্কি ক্যাপ একসঙ্গে এই তিনটি কাজই করে। উপরন্তু দাম কম, সহজে পাওয়া যায়, হালকা ও ব্যবহারযোগ্য, আলাদা স্কার্ফ বা টুপি দরকার হয় না। এই সমস্ত কারণেই গ্রাম থেকে শহর, সব জায়গাতেই মাঙ্কি ক্যাপ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ফ্যাশন না হলেও ম্যাঙ্কি ক্যাপকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ। এই টুপি মানেই শীতের স্কুলে যাওয়া, সকালে দাদু-ঠাকুমার সঙ্গী, কিংবা ভোরে দুধওয়ালা বা পত্রিকাওয়ালার ছবি- এই টুপির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেকের শৈশবের স্মৃতি। যদিও নতুন প্রজন্ম অনেক সময় এটাকে 'আনফ্যাশনেবল' বলে মজা করে, তবু ঠান্ডা পড়লেই অনেকেই আবার পুরনো মাঙ্কি ক্যাপ খুঁজে বের করেন।

ইদানীং দামি ফ্যাশনেও ঢুকেছে মাঙ্কি ক্যাপ! যে মাঙ্কি ক্যাপের ৫০–১০০ টাকা দাম, সেই একই ধরনের টুপি বিদেশে স্কি মাস্ক নামে বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডে হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই রসিকতা করে বলেছেন, “আমরা তো ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশনে ছিলাম!”

মাঙ্কি ক্যাপ হয়তো কখনও র‍্যাম্পে হাঁটবে না, ফ্যাশন ম্যাগাজিনের কভারেও উঠবে না। কিন্তু বাস্তব জীবনে ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে আর শীতের নস্টালজিয়া ধরে রাখতে মাঙ্কি ক্যাপ আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।