সিচুয়েশনশিপ, ন্যানোশিপ, ইত্যাদি বিষয়গুলোর সঙ্গে ধাতস্থ হয়েছেন? আর সেটার ফাঁকেই বাজারে এসে গিয়েছে প্রেম সংক্রান্ত নতুন শব্দ এবং ট্রেন্ড। নাম 'রোস্টার ডেটিং'। শুধু বাজারে যে এই বিষয়টা এসেছে সেটাই নয়েজ ভারতে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। অনেকেই এই ধরনের সম্পর্কে জড়াচ্ছেন। জানেন বিষয়টা কী? 

আজকালকার এই ইঁদুর দৌড়ে মাল্টিটাস্কিং করতেই হয়। কিন্তু এই বিষয়টা ঢুকে পড়েছে সম্পর্ক এবং প্রেমের ব্যাপারেও। এতদিন কাজের জগতে 'শিফট', 'রোস্টার' এসব শব্দ শোনা-টোনা যেত। এখন প্রেমেও শোনা যাচ্ছে। ২০০৬ সালের প্রেমের প্লেবুকে 'রোস্টার ডেটিং' নতুন শব্দ এবং ট্রেন্ডিং। অনেকেই হয়তো বলবেন, আগেও তো অনেকে একই সময় একাধিক মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। আজ এর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, তো কাল তার সঙ্গে। ব্যাপারটা নতুন বা পুরনো নয়। ব্যাপারটা হল, এই ধরনের সর্ম্পকেরও এবার নাম হল। আর বর্তমানে সেই ধরনের সম্পর্ক হুহু করে বাড়ছে।

ধরা যাক, আপনি একই সঙ্গে ৩ বা ৪ জনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছেন। কিন্তু ঠিক কমিটেড নন। আজ একে সময় দিচ্ছেন, তো কাল আরেক জনের সঙ্গে ডেটে যাচ্ছেন, পরশু অন্য একজনের সঙ্গে কফি খেতে। এবার হতেই পারে এঁদের মধ্যে একজন বা সবাই আপনি ছাড়াও আরও ২-৩ জনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছেন। এবং ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবাইকেই সময় দিচ্ছেন। আর এই রোস্টার ডেটিং -এর ক্ষেত্রে, সবার জন্যই একটা নির্দিষ্ট দিন বা ডেট নির্ধারণ করা থাকে। ধরা যাক, ব্যক্তি ক -এর সঙ্গে সোমবার দেখা করেন, ব্যক্তি খ -এর সঙ্গে মঙ্গলবার....। একজনের সঙ্গে লাঞ্চ, আরেকজনের সঙ্গে ডাইন আউট, তৃতীয় জনের সঙ্গে মিড নাইট লং ড্রাইভ, ইত্যাদি। এরম আর কী! অফিসে যেমন রোস্টার হয় আর কী! 

বিষয়টা যে বাজারে নতুন বা বৈপ্লবিক কিছু সেটা একেবারেই নয়। ওই যে, আগেই বলা হল, আগেও মানুষ একাধিক সম্পর্কে একসঙ্গে জড়াতেন। তাহলে এখনের সঙ্গে ফারাক কোথায়? কেনই বা চর্চায়? সমাজমাধ্যমে এই বিষয়ে চর্চা, এবং সংখ্যায় এই ধরনের সম্পর্ক বেড়ে যাওয়া। 

তবে সবার যে বিষয়টা ভাল লাগছে এমনটা নয়। কেউ কেউ তো মজা করে বলছেন, 'সিচুয়েশনশিপ তাও এক রকম, বুঝেছিলাম। এর মধ্যেই নতুন ডেটিং শব্দ চলে এল।' রোস্টার ডেটিং নিয়ে দেখা যাচ্ছে ভরপুর মিম। অনেকের মতেই এতে সম্পর্কের মাধুর্য হারাচ্ছে। গোটা বিষয়টা আরও জটিল, কনফিউসিং হয়ে যাচ্ছে। মানুষ কী চাইছে, কাকে চাইছে, কেমন সম্পর্কে রয়েছে সবটাই ঘেঁটে ঘ হয়ে যাচ্ছে। 

">

তবে যাঁরা রোস্টার ডেটিং করছেন তাঁদের মতে সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটা খুবই উপকারী। কার সঙ্গে সবথেকে ভাল ম্যাচ হচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাতে ভাল লাগছে সেটা এভাবেই বোঝা যাচ্ছে। আবার সিরিয়াস কিছু না চাইলে এভাবে মজাও করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা কমিটমেন্টে ভয় পান, তাঁরা এই সম্পর্ক পছন্দ করছেন। এতে যে সময় মনে হবে যে থাকা যাচ্ছে না একসঙ্গে আলাদা হওয়া যাবে।