হাঁটুর সমস্যার কারণে অনেক সময় ঠিকভাবে হাঁটা–চলা করা কঠিন হয়ে যায়। বয়স বেশি হোক বা কম, এই সমস্যা যে কারও হতে পারে। এর অন্যতম কারণ হতে পারে খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি। এছাড়া ভুল ভঙ্গিতে বসা, দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে থাকা বা কোনও আঘাত থেকেও হাঁটুতে ব্যথা শুরু হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শুধু ব্যথাই নয়, হাঁটু নড়াচড়া করলে ‘কটকট’ শব্দও শোনা যায়। আপনিও যদি এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে হাঁটু থেকে আসা শব্দ কমতে পারে এবং ব্যথা থেকেও মুক্তি মিলতে পারে।

চিকিৎসক দীপক কুলশ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, হাঁটুর কার্টিলেজকে অনেকেই হাঁটুর ‘গ্রিজ’ বলে থাকেন। এটি হাঁটুকে মসৃণ রাখে এবং ব্যথাহীনভাবে চলাফেরার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কার্টিলেজ হাড়কে একে অপরের উপর সহজে সরে যেতে সাহায্য করে এবং ঘর্ষণ কমায়। মূলত এটি উরু ও পায়ের পেশির মাঝখানে কুশনের মতো কাজ করে। অনেক সময় কার্টিলেজের সমস্যা গুরুতর হলে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার বা হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ছাড়াও এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

হাঁটু থেকে কটকট শব্দ এলে কী করবেন?

ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে হাঁটু থেকে শব্দ হতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে তিলের লাড্ডু বা রাগির রুটি খেতে পারেন।
যদি ফোলাভাবের কারণে সমস্যা হয়, তবে আদা খাওয়া উপকারী। আদার সঙ্গে রসুনও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
পায়ে দুর্বলতা অনুভূত হলে এবং সিঁড়ি ওঠানামায় কষ্ট হলে মুগ ডাল ও আখরোট খাওয়া শুরু করুন।
হাঁটুর কার্টিলেজের সমস্যা থাকলে সয়াবিনের বড়ি ও ওটস উপকারী হতে পারে।
প্রতিদিন প্রায় ২০ মিনিট উল্টো দিকে হাঁটার অভ্যাস করলে হাঁটু থেকে আসা কটকট শব্দ কমতে পারে।

হাঁটুর ব্যথা কমাবেন কীভাবে?

হাঁটুর ব্যথা কমাতে হলুদ মেশানো দুধ পান করা যেতে পারে। হলুদে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া হলুদ দিয়ে তৈরি ঘরোয়া লেপ হাঁটুতে লাগালেও ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়।

কোন তেল দিয়ে হাঁটু মালিশ করবেন?

সর্ষের তেলে কয়েক কোয়া রসুন দিয়ে ফুটিয়ে সেই তেল হালকা গরম অবস্থায় হাঁটুতে মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়। এটি হাঁটুর যন্ত্রণা কমাতে কার্যকর। ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি এই ঘরোয়া টিপসগুলো মানলে অনেক ক্ষেত্রেই উপকার মেলে। এতে কোনও খরচও হয় না। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।