দোল বা রঙের উৎসব এসেই গেল প্রায়। এদিন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত যে কেবল রং, আবির নিয়ে খেলায় মেতে উঠবে সেটাই নয়। একাধিক জায়গায় সমারোহে পালিত হবে দোল পূর্ণিমার পুজো, পূজিত হবেন রাধাকৃষ্ণ। কিন্তু এই বছর দোল কবে পড়েছে, সেটা নিয়ে দ্বিধা দেখা গিয়েছে। জেনে নিন দিন সহ সময়। 

দোলের সময় এবং দিন:

বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, ২ মার্চ বিকেল ৫ টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি লাগছে। ছাড়বে ৩ মার্চ বিকেল ৫ টা ৭ মিনিটে। ফলে বাঙালি মতে দোল পূর্ণিমা পালিত হবে ৩ মার্চ, হোলিকা দহন ২ মার্চ। আর অবাঙালি মতে হোলিকা দহন উদযাপন করা হবে ৩ মার্চ। হোলি পালিত হবে ৪ মার্চ। 

অন্যদিকে গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা মতে, পূর্ণিমা তিথি লাগছে সোমবার, ২ মার্চ বা ১৭ ফাল্গুন বিকেল ৫ টা ৪২ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে। শেষ হচ্ছে ১৮ ফাল্গুন বা ৩ মার্চ বিকেল ৪ টে ৫৭ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে। 

বাংলায় যে দোল পালিত হয় সেটা মূলত বৈষ্ণব ধর্মীয় উৎসব। রাধাকৃষ্ণের প্রেমকে উদ্‌যাপন করা হয় এদিন। দোলের আগের দিন হোলিকা দহন বা ন্যাড়া পোড়া হয়। আর দোলের দিন সকালে রাধাকৃষ্ণের পায়ে আবির ছুঁইয়ে শুরু হয় রং খেলা। অনেকের বাড়িতে বানানো হয় দোল মঞ্চ।

দোলের দিন বাড়িতে এই জিনিসগুলো মেনে চলুন, সংসারে উপচে পড়বে সুখ, সমৃদ্ধি: 

এদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নিন। 

বাড়ি পরিষ্কার রাখুন। বিশেষ করে মূল দরজা পরিষ্কার রাখুন। পারলে দরজার কাছে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকুন। 

এদিন বাড়িতে সত্যনারায়ণের পুজো রাখুন। পারলে উপোস থেকে নিজেই পুজোর জোগাড় করুন। 

দোলের দিন রং খেলা শুরু করার আগে বাড়ির ঠাকুরের সিংহাসনে থাকা সমস্ত দেবদেবীর পায়ে আবির ছোঁয়ান। 

আমিষের বদলে, এদিন নিরামিষ খাবার খান। 

গোলাপি আবির দিয়ে অবশ্যই রং খেলুন। এই রং স্বাস্থ্য, কেরিয়ার, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির প্রতীক। 

কেন হোলি পালিত হয়? 

বাংলায় যেখানে রাধাকৃষ্ণের প্রেম উদ্‌যাপনের জন্য দোল উৎসব পালিত হয়, সেখানে আরও এক পৌরাণিক কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে এই উৎসবের সঙ্গে। হিরণ্যকশিপু বধের পর অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয়কে উদ্‌যাপন করার জন্য দোল খেলা হয়।