আমন্ডে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। এই তিনটি উপাদান দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে বারবার খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে এবং অতিরিক্ত খাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পাশাপাশি আমন্ড মেটাবলিজমকে সক্রিয় করে তোলে, যার ফলে শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্যালোরি বার্ন করতে পারে।
ওজন কমাতে আমন্ড কেন কার্যকর
বর্তমান সময়ে বাড়তি ওজন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওজন কমাতে অনেকেই নানা ধরনের ডায়েট প্ল্যান অনুসরণ করেন, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে আমন্ড এমন একটি ড্রাই ফ্রুট, যা সঠিক মাত্রায় খেলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে। প্রশ্ন একটাই, ওজন কমাতে প্রতিদিন কতটা আমন্ড খাওয়া উচিত এবং কোন পদ্ধতিতে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়?
আমন্ডের পুষ্টিগুণ
আমন্ডে থাকা প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে বারবার খিদে পাওয়ার সমস্যা কমে। একই সঙ্গে এটি শরীরের মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি দ্রুত বার্ন হয়।
ভিটামিন ই ও খনিজের ভূমিকা
আমন্ডে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন ই শরীরকে শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে। তাই ডায়েটিং চলাকালীনও শরীর দুর্বল লাগে না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে আমন্ড খেলে উল্টো ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই সঠিক পরিমাণ জানা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিদিন কতটি আমন্ড খাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন পাঁচ থেকে আটটি আমন্ড খাওয়া যথেষ্ট। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, কিন্তু অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হয় না। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন বা শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয়, তারা চাইলে আট থেকে দশটি আমন্ড খেতে পারেন। তবে এর বেশি খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে।
আমন্ড খাওয়ার সঠিক উপায়
সবচেয়ে ভাল হল, রাতে জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে আমন্ড খাওয়া। ভেজানো আমন্ড সহজে হজম হয় এবং এর পুষ্টিগুণ শরীরে আরও ভালভাবে শোষিত হয়। আমন্ড সব সময় এমনিই খাওয়া উচিত। এর সঙ্গে নুন বা চিনি মেশানো ঠিক নয়।
চাইলে আমন্ড জলখাবারের সময় বা দুপুরে হেলদি স্ন্যাকস হিসাবেও খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। তবেই ওজন কমাতে আমন্ডের পূর্ণ উপকার পাওয়া সম্ভব। যাদের ড্রাই ফ্রুটে অ্যালার্জি রয়েছে বা হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের আমন্ড খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
