মাছে-ভাতে বাঙালি। পাতে মাছ ছাড়া অনেকেরই যেন মুখে ভাত উঠতে চায় না। প্রোটিনে ভরপুর মাছ চোখ, পেশি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বাজারে নানা ধরনের মাছ পাওয়া যায়। যাঁরা নিয়মিত মাছ খান, তাঁরা অনেক সময় মাছের ডিমও সঙ্গে করে আনেন। মাছের ছোট ছোট ডিমে লুকিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ পুষ্টিগুণ। কোন মাছের ডিম খাওয়া সবচেয়ে ভাল এবং এতে কী কী পুষ্টি উপাদান রয়েছে, জেনে নেওয়া যাক।

মাছের মতোই মাছের ডিমেও রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, ফসফরাস, জিঙ্ক ও নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই সব উপাদান শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যের জন্য বহু উপকারী মাছ রয়েছে। তবে মাছের ডিমের কথা বললে স্যামন, ট্রাউট, ক্যাপেলিনের ডিমের পাশাপাশি ভারতীয় মাছের মধ্যে রুই ও ইলিশের ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সব মাছের ডিমে প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, ফসফরাস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন বি১২ প্রচুর মাত্রায় পাওয়া যায়।

মাছের ডিমে অল্প পরিমাণে তিন ধরনের ফ্যাট থাকে। স্যাচুরেটেড, পলি-আনস্যাচুরেটেড ও মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এগুলি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভাল কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধা ও প্রদাহ কমাতে, রক্তনালি প্রসারিত করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

গবেষকদের মতে, মাছ ও মাছের ডিমে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছের ডিম প্রদাহনাশক হিসাবে কাজ করে এবং প্রদাহ বাড়ায় এমন সাইটোকাইনের উৎপাদন কমাতে সহায়তা করে।

ডিএইচএ ও ইপিএ শিশুদের দৃষ্টিশক্তির বিকাশে এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের রেটিনার সঠিক কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। যাঁদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ থাকে না, তাঁদের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ও ড্রাই আই সিনড্রোমের ঝুঁকি বেশি থাকে। মাছের ডিম খেলে এই সমস্যাগুলির ঝুঁকি কমতে পারে।

ভিটামিন বি১২ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। দীর্ঘদিন স্মৃতিভ্রংশ, ভুলে যাওয়ার সমস্যা বা আলঝাইমারের মতো রোগ থেকে দূরে থাকতে চাইলে খাদ্যতালিকায় মাছ ও মাছের ডিম রাখা উপকারী।

মাছের ডিমে প্রচুর সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত মাছের ডিম খেলে বিভিন্ন সংক্রমণ ও ছোটখাটো অসুখ থেকে নিজেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।