বিদেশে এখন এক বিশেষ ধরনের মধু নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। দেখতে একেবারে সাদা বা ক্রিমের মতো হওয়ায় অনেকেই এটিকে 'হোয়াইট হানি' বা 'হোয়াইট ডিলাইট' বলে ডাকেন। আসলে এটি সাধারণ কোনও মধু নয়, বরং সরষে ফুল থেকে তৈরি মাস্টার্ড হানি বা সরষে ফুলের মধু। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন মৌমাছিরা সরষে ফুল থেকে মধুর রস সংগ্রহ করে, তখন সেই রস থেকে যে মধু তৈরি হয় তা অনেক সময় হালকা হলুদ বা সাদা রঙের হয়ে যায়। কিছুদিন রাখলে এই মধু জমে ঘন হয়ে যায় এবং ক্রিমের মতো দেখতে হয়। যাকে বলা হয় 'ক্রিস্টালাইজেশন'। অনেকেই এটাকে ভেজাল মনে করেন, কিন্তু আসলে এটি খাঁটি মধুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

বিদেশের বহু দেশে এই সাদা মধুর চাহিদা এখন দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক মানুষ এই মধু খুব পছন্দ করেন। কারণ এর স্বাদ সাধারণ মধুর থেকে একটু আলাদা এবং এটি বেশ ঘন হওয়ায় খেতে ক্রিমের মতো লাগে। তাই অনেকে এটি ব্রেড, টোস্ট বা প্যানকেকের উপর মাখিয়ে খেতে পছন্দ করেন।

এই মধুর দামও সাধারণ মধুর তুলনায় বেশি। কারণ এটি সহজে পাওয়া যায় না এবং এর স্বাদ ও গুণের জন্য বিদেশে এর বিশেষ কদর রয়েছে। অনেক সময় এই মধু প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়ার কারণে এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।

মজার বিষয় হল, ভারতে প্রচুর সরষে চাষ হয় এবং সেই ক্ষেত থেকেই এই মধু তৈরি হয়। অর্থাৎ এই মধুর বড় অংশই ভারতে উৎপাদিত হয়। কিন্তু দেশের অনেক মানুষ এই সাদা মধুকে ঠিকভাবে চিনতে পারেন না। অনেকে মনে করেন মধু জমে গেলে বা সাদা হয়ে গেলে সেটি নষ্ট হয়ে গেছে বা তাতে চিনি মেশানো হয়েছে।

এই ভুল ধারণার কারণেই দেশে এর ব্যবহার কম। ফলে উৎপাদিত মধুর বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়ে যায়। সেখানে এটি অনেক বেশি দামে বিক্রি হয় এবং বিশেষ ধরনের প্রিমিয়াম মধু হিসেবে ধরা হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দেখতে একটু আলাদা হলেও সরষে ফুলের এই সাদা মধু এখন বিদেশে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বাদ, ঘনত্ব এবং প্রাকৃতিক গুণের কারণেই এটি সাধারণ মধুর থেকে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। এখন ধীরে ধীরে অনেকেই এই মধুর আসল গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে শুরু করেছেন।