কয়েকটি সবজি এমন রয়েছে, যেগুলিতে ভরপুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ থাকে। সেগুলির মধ্যে গাজর তেমনই একটি সবজি, যা নানা ধরনের পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। বিশেষ করে শীতকালে গাজর খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজর এতটাই পুষ্টিকর যে অনেক ক্ষেত্রে আমিষ না খেলেও শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া সম্ভব। চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গাজর বিশেষভাবে উপকারী। জেনে নেওয়া যাক, গাজরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা উপকারিতাগুলি কী কী।

শীতে নানা ধরনের সবজি বাজারে আসে, তার মধ্যে মাটির নিচে জন্মানো গাজর অন্যতম। এটি এমন একটি সবজি, যা শরীরকে শক্তি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, গাজরের পুষ্টিগুণ এতটাই বেশি যে এর সামনে আমিষও অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। শীতকালে খাদ্যতালিকায় গাজর রাখলে আলাদা করে আমিষ খাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যায়। দেখতে সাধারণ হলেও গাজরের ভিতরে থাকা পুষ্টি উপাদান অত্যন্ত শক্তিশালী।

গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ বা বিটা-ক্যারোটিন থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শীতকালে ক্লান্তি ও দুর্বলতা কমাতে গাজর বেশ কার্যকর। আমিষ থেকে যে শক্তি পাওয়া যায়, তা প্রাকৃতিকভাবেই গাজর খেয়েও পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি গাজর শরীরের ভিতর উষ্ণতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ক্যারোটিনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে।

শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। গাজরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে। সর্দি-কাশি ও বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে গাজর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই ঠান্ডার দিনে নিয়মিত গাজর খাওয়াকে উপকারী বলে মনে করা হয়।

আমিষ খেলে শরীরে প্রচুর প্রোটিন পাওয়া যায়, তবে গাজরেও রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি, ফাইবার ও খনিজ। এগুলি হজমশক্তি ভাল রাখতে সাহায্য করে। শীতকালে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, গাজর খেলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে।

ঠান্ডার দিনে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। গাজরে থাকা ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। আমিষ না খেলেও গাজরের মাধ্যমে ত্বক প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং শুষ্কভাব কমে।

চোখের জন্যও গাজর অত্যন্ত উপকারী। শীতকালে চোখে শুষ্কতা বা জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকে। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক, সব বয়সের মানুষের জন্যই গাজর উপকারী।
গাজর খাওয়ার নানা উপায় রয়েছে। অনেকেই ভাল করে ধুয়ে কাঁচা গাজর খেতে পছন্দ করেন। কেউ আবার গাজরের হালুয়া, তরকারি বা স্যুপ তৈরি করেন। কাঁচা গাজর খাওয়া বা এর রস পান করাও স্বাস্থ্যকর। এতে থাকা ফাইবার হজমতন্ত্রের উন্নতি ঘটায়। যেভাবেই গাজর খাওয়া হোক না কেন, এর উপকারিতা কমে না। শীতকালে প্রতিদিন গাজর খেলে শরীর শক্তিশালী হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।