ভারতীয় নাগরিকদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি আধার কার্ড। এটি তাঁদের অন্যতম পরিচয় পত্র। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ব্যাঙ্কের কাজ হোক বা সরকারি কোনও স্কিম, সবেতেই আধার কার্ড প্রয়োজনীয়। এমনকী বেড়াতে গেলেও হোটেল থেকে চেকিংয়ের সময় লাগে। এই নথি এত জায়গায় ব্যবহৃত হয় বলে এর নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অনেক মানুষই সেটার গুরুত্ব না বুঝে ছোটখাটো ভুল করেন, আর যে আধার কার্ড নিয়ে সচরাচর যে ভুলগুলো করা হয় সেগুলো আপাত দৃষ্টিতে দেখে ক্ষতিকর মনে হয় না। বা এর কারণে ভবিষ্যতে কোনও বড় বিপদ হতে পারে সেটাও বোঝা যায় না।

সরকার এবং ইউআইডিএআইয়ের তরফে একাধিকবার সচেতন করার পরও নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা দেখা যায় না। বরং উল্টে আধার সংক্রান্ত জালিয়াতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। তাই সরকারের তরফে বারংবার বলা হচ্ছে ইউআইডিএআই কখনও নাগরিকদের আধার নম্বর চায় না। এমনকী ফোন করে বা মেসেজে ওটিপি চায় না। এছাড়া আধার সংক্রান্ত কোনও ভুয়ো লিঙ্কে ক্লিক না করাই বাঞ্ছনীয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। 

যদি ভুল করেও আধার কার্ডের তথ্য ভুল কারও হাতে পড়ে যায় তাহলে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি থেকে আপনার নামে, আপনারই অজ্ঞাতে ভুয়ো সিম তুলে অনৈতিক কাজ করতে পারে। আর তাতে বলাই বাহুল্য ফাঁসবেন আপনি। আপনার পরিচয় চুরিও হতে পারে, সেটা ব্যবহার করে সরকারি সুবিধা অন্য কেউ ভোগ কে পারে। এমনকী ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ক্ষেত্রে আপনার জমানো সমস্ত টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে ভোঁ ভা হয়ে যেতে পারে। 
কোন ভুল সবথেকে বেশি করা হয় আধার কার্ড নিয়ে? 

আধার কার্ড সংক্রান্ত সবথেকে বেশি যে ভুল মানুষে করেন সেটা হল তাঁদের আধার নম্বর সব জায়গায় শেয়ার করা। অনেকেই আধারের জেরক্স দোকান থেকে শুরু করে হোটেল, ইত্যাদি জায়গায় দিয়ে দেন দ্বিতীয়বার ভাবনা চিন্তা না করেই। এটা অত্যন্ত ভুল একটি কাজ। আধার ভীষণই সংবেদনশীল একটি নথি। তাই বিশ্বাসযোগ্য এবং ভীষণ প্রয়োজনীয় জায়গাতেই একমাত্র দেওয়া উচিত। 

এছাড়া অনেক সময় জালিয়াতরা ফোন করে ব্যাঙ্কের নাম করে আধার নম্বর চায়। সেক্ষেত্রেও কাউকে ফোনে আধার নম্বর বলা উচিত নয়। এতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওটিপিও দেওয়া উচিত নয়।