আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুরোনো নোট ও মুদ্রা এখন আর শুধু অতীতের স্মৃতি নয়। অনেক সংগ্রাহকের জন্য এগুলি আয়ের এক মূল্যবান উৎস হয়ে উঠেছে। ভারতে মুদ্রা সংগ্রাহকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিরল ব্যাঙ্কনোট গুলি লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সেগুলি সংগ্রাহকরা কিনে নেন। আপনার বাড়িতে যদি স্বাধীনতা-পূর্বের কোনও পুরনো নোট রাখা থাকে, তবে সেটির মূল্য আপনার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
বর্তমানে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি নোট হল ব্রিটিশ আমলের এক টাকার নোট। এই নোটটি ১৯৩৫ সালের দিকে জারি করা হয়েছিল। নোটটিতে তৎকালীন গভর্নর জে. ডব্লিউ-এর স্বাক্ষর রয়েছে। প্রায় ৯০ বছর পুরনো হওয়ায় এটি অত্যন্ত দুর্লভ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংগ্রাহকরা এটি নিজের সংগ্রহে রাখার জন্য এতটাই আগ্রহী যে, কিছু ক্ষেত্রে এর দাম ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। নোটটি চমৎকার অবস্থায় থাকে তাহলেই।
এটি শুধু একটি পুরনো নোটই নয়, এটি ইতিহাসের সাক্ষী। এটি ভারতের ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকার ইতিহাস। তখন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভিন্নভাবে পরিচালিত হত। বেশ কয়েকটি কারণের জন্য এর এত দাম- ঐতিহাসিক তাৎপর্য, সীমিত মুদ্রণ এবং সহজলভ্য না হওয়া, গভর্নরের স্বাক্ষর, সংগ্রহকারীদের মধ্যে চাহিদা, কোনও ছেঁড়া বা ত্রুটি ছাড়াই ভাল অবস্থায় থাকা নোট।
আজকের ডিজিটাল যুগে সংগ্রাহকরা প্রায়শই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুরোনো মুদ্রা কেনাবেচা করেন। কয়েন বাজার এবং কুইকরের মতো সাইটগুলি বিরল নোট নিলামের জন্য জনপ্রিয়। তবে, এটা মনে রাখা জরুরি যে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে পুরনো ব্যাঙ্কনোট এবং কয়েন কেনাবেচার অনুমতি দেয় না। তাই, এই ধরনের লেনদেনে ঝুঁকি সম্পূর্ণ ক্রেতা ও বিক্রেতার।
কেন এক টাকার নোটের এত দাম? এর প্রধান কারণ এটি দুর্লভ। এক টাকার নোট একাধিকবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে এটি দুষ্প্রাপ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাল অবস্থায় থাকা নোটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেগুলির মূল্য বৃদ্ধি পায়। ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী নোটগুলো সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ মূল্যবান।
এক টাকার নোটটি প্রথম চালু হয় ১৯১৭ সালে। সেটিতে রাজা পঞ্চম জর্জের প্রতিকৃতি ছিল। ১৯২৬ সালে এর মুদ্রণ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ১৯৪০ সালে নোটটি আবার চালু করা হয়। ১৯৯৪ সালে এটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই দশক পর, ২০১৫ সালে এর মুদ্রণ আবার শুরু হয়। এই নোটটির একটি বৈশিষ্ট্য হল, এতে ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’-এর পরিবর্তে ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’ লেখা থাকে। এর কারণ হল, ১৯৩৫ সালে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই নোটটি চালু করা হয়েছিল।
