সুন্দর বাড়ি মানে শুধু দেওয়াল, আসবাব কিংবা পর্দার অন্দরসজ্জা নয়, বাড়ির মেঝেও সেই সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেঝের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে গোটা অন্দরমহলের সাজ। সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন মেঝে, ঘরের লুক একেবারে বদলে দিতে পারে। কিছুদিন আগেও মেঝে বলতে ছিল ভেট্রিফায়েড টাইলস বা মার্বেলের মেঝে। এখন এই তালিকায় নতুন সংযোজন ইপোক্সি ফ্লোরিং। ফ্লোরিংয়ের নানা বৈচিত্রের মধ্যে ক্রমশ ইপোক্সি ফ্লোরিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দেখতে চকচকে, মজবুত এবং দীর্ঘদিন টেকসই হওয়ার কারণে অনেকের কাছেই এই মেঝে সাধারণ টাইলস বা মার্বেলের বিকল্প হয়ে উঠছে।
কী এই ইপোক্সি ফ্লোরিং
সাঁঝবাতি ইন্টিরিয়র ডিজাইন স্টুডিও-র পার্টনার দেবজিৎ মজুমদার জানিয়েছেন, ইপোক্সি ফ্লোরিং হল এক ধরনের বিশেষ কেমিক্যাল কোটিং যা কংক্রিট বা সিমেন্টের মেঝের ওপর করা হয়। রেজিন এবং হার্ডনার নামের দুই উপাদান মিশিয়ে তৈরি হয় ইপোক্সি ফ্লোরিং। রেজিং মূলত এক ধরনের আঠা। যা ভেজজ বা রাসায়নিকভাবে তৈরি করা হয়। এর সঙ্গে হার্ডনার নামক রাসায়নিকটি নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশালে একটি চকচকে তরল তৈরি হয়। সেই মিশ্রণ মেঝের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। চাইলে এর মধ্যে রং মিশিয়ে নানা ধরনের ডিজাইনও তৈরি করা যায়। আর রং না দিলে মেঝে স্বচ্ছ বা কাচের মতো দেখতে হয়।
কীভাবে করা হয়
দেবজিৎ মজুমদারের কথায়, “প্রথমে মেঝের ওপর পছন্দ মতো কোনও প্রিন্ট বিছিয়ে দেওয়া হয়। সেই ডিজাইন অনুয়ায়ী তার ওপর রেজিং ও হার্ডনারের মিশ্রণ ঢালা হয়। মিশ্রণটি জমে শক্ত হয়ে গেলে পালিস করে আরও মসৃণ ও চকচকে করা হয়। এই কাজে নির্দিষ্ট অনুপাতে দুটি উপাদান মেশানো খুবই জরুরি, নইলে ফ্লোরিং নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”
ইপোক্সি ফ্লোরিংয়ে কোনও ফাঁক বা জয়েন্ট থাকে না। ফলে ধুলো, ময়লা বা জীবাণু জমার সুযোগ কম থাকে। এই কারণে হাসপাতাল, ল্যাব কিংবা অফিসে ব্যবহার বেশি নজরে আসে। দেবজিৎ মজুমদারের মতে, এই ফ্লোরিং যেমন নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়, তেমনই কাস্টমাইজড করা যায়। অর্থাৎ নিজের পছন্দমতো রং, ডিজাইন, প্যাটার্ন বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। টাইলসের তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণের ঝক্কিও কম। সামান্য জল দিয়ে খুব সহজে মেঝে ঝকঝকে রাখা সম্ভব। ভারী জিনিস পড়লে ফেটে যাওয়ার কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে না। তেল, গ্রিজ, রাসায়নিক তরল পড়লেও সহজে দাগ পড়ার আশঙ্কা কম। তাই গ্যারেজ কিংবা কারখানার মতো জায়গার জন্যও আদর্শ।
খরচ
নির্ভর করে মেঝের আয়তন, ডিজাইন ও ব্যবহৃত উপকরণের ওপর। কলকাতায় ইপোক্সি ফ্লোরিংয়ের খরচ প্রতি বর্গফুট প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা হতে পারে। পুরনো মেঝে খারাপ হলে খরচ বাড়ে। আবার একরঙা সাধারণ ফ্লোরিং তুলনামূলক সস্তা হলেও বিশেষ ডিজাইন বা থ্রি-ডি লুক চাইলে খরচ বেড়ে যায়।
জেনে রাখা ভাল
• ইপোক্সি ফ্লোরিং সঠিকভাবে করতে দক্ষ মিস্ত্রির প্রয়োজন হয়। নইলে পুরো মেঝের কাজই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
• এরাজ্যের আর্দ্র আবহাওয়ায় কয়েক বছর পরে এই ফ্লোরিংয়ের রং কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে।
• মেঝের কোনও একটি অংশ আলাদা করে বদলানো যায় না। পরিবর্তন করতে হলে প্রায় পুরো অংশই নতুন করে করতে হয়।
