হলুদ তরমুজ চাষ করে ওড়িশার এক চাষী চারদিকে সাড়া ফেলে দিয়েছেন৷ ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের কুন্ধেই গ্রামে চাষীরা সাধারণত ধান সবজি চাষ করেন৷ আয় হয় সামান্য৷ 

ময়ূরভঞ্জ জেলার কুন্ধেই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা মূলত প্রচলিত ফসলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু এক প্রগতিশীল কৃষকের উদ্যোগে শুরু হয় ভিন্নধর্মী চাষ—হলুদ তরমুজ। এই বিশেষ জাতের তরমুজ সাধারণ তরমুজের তুলনায় দেখতে আলাদা, স্বাদে মিষ্টি এবং বাজারে এর চাহিদাও বেশি।

প্রথমে তিনজন কৃষক ঝুঁকি নিয়ে এক একর জমিতে হলুদ তরমুজ চাষ শুরু করেন। প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগে বীজ, সার ও জৈব উপকরণ কিনে চাষ করা শুরু হয়। 


তিন রকম তাইওয়ানের তরমুজ চাষ করা শুরু হয়৷ আরোহী- হলুদ তরমুজ, ভিশলা এবং জন্নত নামে লাল তরমুজ চাষ করেন চাষীরা৷ মিষ্টি স্বাদ আর উজ্জ্বল রঙের জন্যই এই তরমুজের এত চাহিদা৷ 

 সূত্রের খবর, সুধীর মহান্ত নামে একজন চাষী প্রথম ফলনেই বিপুল লাভ করেন৷ আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র ৩০–৩৫ দিনের মধ্যেই ফল ধরা শুরু করে এবং ৯০ দিনের মধ্যেই পুরো ফসল পেকে যায়।  

 প্রতি কেজি ৪০–৫০ টাকায় তরমুজ বিক্রি হয়, যা সাধারণ তরমুজের দামের প্রায় দ্বিগুণ। এক একর জমি থেকে মোট আয় হয় প্রায় ২ লক্ষ টাকা, আর খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকে প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা। 

এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় দিক হল দ্রুত ফলন এবং বেশি লাভ। একই জমিতে তরমুজ কাটার পর আবার ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে বছরে দ্বিগুণ আয় হচ্ছে কৃষকদের। 

 হলুদ তরমুজ চাষ কেবল একটি গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থাই বদলায়নি, বরং অন্য কৃষকদের জন্যও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণা।