সময়ের সঙ্গে বদল আসে সবকিছুতে। রূপচর্চার দুনিয়াতেও এসেছে নানা পরিবর্তন। ২০২৬ সালের শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হয়েছে এক নতুন ট্রেন্ড। মুখে ড্রাই ব্রাশিং। অনেকেই দাবি করছেন, এই পদ্ধতিতে মুখের ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয় এবং ‘জ‌’লাইনও ভাল দেখায়। কিন্তু সত্যি কি তাই? আসুন জেনে নেওয়া যাক- 


ড্রাই ব্রাশিং মূলত শুকনো ত্বকে নরম ব্রাশ দিয়ে হালকা ঘষা। এর মূল উদ্দেশ্য হল, মৃত ত্বক কোষ সরানো, রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো এবং ত্বককে সতেজ দেখানো। এটি এক ধরনের হালকা এক্সফোলিয়েশন পদ্ধতি। তবে ম্যাসাজ টুলের মতো এটি পেশি শিথিল বা গভীর লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজে সাহায্য করে না।


অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, ড্রাই ব্রাশিং করলে মুখের ত্বক কিছুটা মসৃণ মনে হয় এবং সামান্য জেল্লা আসে। এছাড়া মুখের ফোলা কমতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি জ‌-লাইন  বা মুখের নিচের চোয়ালের হাড়ের দৃশ্যমান সুনির্দিষ্ট রেখা স্থায়ীভাবে তৈরি করতে পারে না। জ‌-লাইন মূলত হাড়ের গঠন, পেশির টোন এবং মুখের ফ্যাটের ওপর নির্ভর করে, যা শুধু ব্রাশিংয়ের মাধ্যমে বদলানো সম্ভব নয়।


ড্রাই ব্রাশিং করার সময় কিছু সাবধানতা মেনে চলা উচিত। যেমন নরম ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে।।শক্ত ব্রাশ ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মুখ সম্পূর্ণ শুকনো থাকলে ব্রাশিং শুরু করুন। চোখের আশপাশ এবং ব্রণ বা ক্ষতচিহ্নযুক্ত জায়গা এড়িয়ে চলুন।সপ্তাহে ২‑৩ বার, মাত্র ১‑২ মিনিট করুলেই যথেষ্ট, দৈনন্দিন করার প্রয়োজন নেই। শেষেও মুখ ধুয়ে সিরাম এবং ময়েশ্চারাইজার লাগান।


ভুলভাবে বা অতিরিক্ত ব্রাশ করলে ত্বকে লালচে ভাব, শুষ্কতা বা ব্রেকআউট হতে পারে। এছাড়া অপরিষ্কার ব্রাশ ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। তাই ব্রাশের পরিচ্ছন্নতা এবং হালকা স্পর্শ খুব জরুরি।


ড্রাই ব্রাশিং মূলত ত্বকের এক্সফোলিয়েশন ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর একটি সহজ উপায়। এটি ত্বককে সামান্য উজ্জ্বল ও সতেজ করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু জ‌-লাইন পরিবর্তন বা কোনও বড় বৈজ্ঞানিক ফল আশা করা উচিত নয়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ট্রেন্ড জনপ্রিয় হলেও চিকিৎসকেরা মনে করেন, এটি সতর্কতার সঙ্গে, সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।