আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনেক মহিলা আছেন, যাঁরা অর্গাজমের সময় নিজেই অবাক হয়ে যান। কেউ হঠাৎ হেসে ফেলেন, কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারেন না, কারও আবার মাথা ধরে আসে, পায়ে ঝিনঝিন করে বা অদ্ভুত কিছু দেখার অনুভূতি হয়। এতদিন এই অভিজ্ঞতাগুলোকে অনেকেই ‘অস্বাভাবিক’ ভেবে চেপে গেছেন, লজ্জা পেয়েছেন, কিংবা কাউকে বলতেই সাহস করেননি।
কিন্তু সদ্য প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে এই অভিজ্ঞতাগুলো বিরল হলেও বাস্তব, এবং বহু মহিলারাই এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যান।
আমেরিকার Journal of Women’s Health-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা অর্গাজমের সময় দেখা দেওয়া এমন নানা শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়াকে একত্রে নাম দিয়েছেন ‘পেরি-অর্গাজমিক ফেনোমেনা’।
গবেষণার প্রধান লেখক ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ড. লরেন স্ট্রাইকার বলছেন, “এর আগেও বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনার কথা শোনা গিয়েছে। কিন্তু এই প্রথম আমরা বুঝতে পারছি কী কী ধরনের অভিজ্ঞতা হয়, কতজনের হয় এবং কী পরিস্থিতিতে বেশি হয়।” গবেষণায় অংশ নেওয়া মহিলাদের মধ্যে মাত্র ২.৩ শতাংশ এই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সংখ্যাটা কম হলেও গবেষকদের মতে, আসল বিষয় হলো এই অভিজ্ঞতাকে স্বাভাবিক বলে স্বীকৃতি দেওয়া।
ড. স্ট্রাইকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি কোনও মহিলা প্রতিবার অর্গাজমের সময় অকারণে হেসে ফেলেন বা কেঁদে ফেলেন বা অদ্ভুত শব্দ করেন, তাঁর এটা জানা দরকার, তাঁর শরীরের সঙ্গে কিছু ‘ভুল’ হচ্ছে না। তিনি একা নন।”
কীভাবে করা হয়েছিল এই গবেষণা?
নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে এই বিষয়টি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়। ভিডিওটি দেখেন প্রায় ৩,৮০০ জন মহিলা। তাঁদের মধ্যে ৮৬ জন জানান, অর্গাজমের সময় তাঁরা এমন কিছু অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান এবং একটি গোপন অনলাইন সমীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকেই উঠে আসে নানা অজানা তথ্য।
শরীর কী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়?
যাঁরা এই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন-
কারও মাথা ব্যথা করে
কারও শরীর হঠাৎ দুর্বল লাগে
কারও পা বা মুখে ঝিনঝিন করে
কেউ হাঁচি দেন বা হাই তোলেন
এমনকি কয়েকজনের ক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা কানে অস্বস্তিও হয়েছে
মনও চুপ থাকে না
শুধু শরীর নয়, মনও নানা ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়-
অনেকেই কেঁদে ফেলেন
কেউ বলেন, অভিজ্ঞতাটা ভালো হলেও হঠাৎ একটা অজানা দুঃখ চেপে আসে
অনেকে হেসে ফেলেন, নিজেরাই বুঝতে পারেন না কেন
খুব অল্প সংখ্যক মহিলা হ্যালুসিনেশন বা অদ্ভুত দৃশ্য দেখার কথাও বলেছেন
একা হলে কম, সঙ্গীর সঙ্গে বেশি
একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই অভিজ্ঞতাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের সময়।
অর্ধেকেরও বেশি মহিলা জানিয়েছেন, একা থাকলে নয় সঙ্গীর উপস্থিতিতেই এগুলো বেশি হয়
স্বমেহন বা ভাইব্রেটর ব্যবহারের সময় এই অভিজ্ঞতা তুলনায় অনেক কম
তাহলে কি এটা চিন্তার বিষয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নয়। অর্গাজম মানে শুধু শারীরিক সুখ নয়। এই সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন ও অক্সিটোসিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা স্মৃতি, আবেগ, সম্পর্ক সব কিছুর সঙ্গেই জড়িত। তাই কারও ক্ষেত্রে এই আবেগের ঢেউ চোখের জল বা হাসি হয়ে বেরিয়ে আসতেই পারে।
এক সময় মনে করা হতো, মহিলাদের অর্গাজম নাকি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজ বিজ্ঞান স্পষ্ট করে বলছে এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সুস্থ মানসিক ও শারীরিক জীবনের জন্য মহিলাদের অর্গাজমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন প্রতিটি শরীর আলাদা, প্রতিটি অভিজ্ঞতাও আলাদা। ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, মানসিক স্বস্তি সব মিলিয়ে নিজের শরীরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাটাই সবচেয়ে জরুরি।
সবচেয়ে বড় কথা, অর্গাজমের সময় যদি হাসি আসে, কান্না আসে বা অদ্ভুত কিছু লাগে তা লুকোনোর নয়। এই গবেষণা বলছে, এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই অনেক মহিলা যান। এখন অন্তত জানার সুযোগ হলো এটা অস্বাভাবিক নয়।
