বিশ্বজুড়ে রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য বিখ্যাত ছিলেন বুলগেরিয়ার অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা। তাঁর নামের আগে থাকা বাবা শব্দটি অনেকের কাছেই কৌতূহলের বিষয়।
2
8
অনেকেই ভাবেন এটি হয়তো তাঁর আসল নামের অংশ বা ধর্মীয় কোনো উপাধি। কিন্তু বাস্তবে এর অর্থ একটু আলাদা এবং সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
3
8
আসলে বাবা শব্দটি দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বহু স্লাভিক ভাষায় ব্যবহৃত একটি সাধারণ শব্দ। এই শব্দের অর্থ হল “দিদিমা”, “বয়স্কা নারী” বা “সম্মানিত বৃদ্ধা মহিলা”। অর্থাৎ এটি একটি সম্মানসূচক সম্বোধন, যা বয়স্ক নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যবহার করা হয়।
4
8
এই কারণে ভাঙ্গার নামের আগে বাবা যোগ হওয়া মানে দাঁড়ায়— “দিদিমা ভাঙ্গা” বা “মা-সমান বয়স্কা ভাঙ্গা”। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ভ্যাঙ্গেলিয়া পানদেভা গুশতেরোভা । কিন্তু মানুষ তাঁকে স্নেহ ও শ্রদ্ধা থেকে বাবা ভাঙ্গা বলে ডাকতে শুরু করে, এবং সেই নামই বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে যায়।
5
8
১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া ভাঙ্গা ছোটবেলায় একটি ঝড়ের ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান বলে প্রচলিত আছে। পরে তিনি দাবি করেন যে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা আছে এবং তিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন। ধীরে ধীরে তাঁর খ্যাতি পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
6
8
অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন যে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, চেরনোবিল দুর্ঘটনা বা ৯/১১-এর মতো ঘটনাও নাকি আগে থেকেই বলে দিয়েছিলেন—যদিও এসব দাবির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ খুব কম।
7
8
মজার বিষয় হল, বাবা শব্দটি শুধু ভাঙ্গার ক্ষেত্রেই নয়, স্লাভিক সংস্কৃতিতে অনেক লোককথা বা চরিত্রের নামেও ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন লোককথার চরিত্র বাবা ভাঙ্গা নামেও একই শব্দ রয়েছে, যেখানে বাবা মানে একজন বৃদ্ধা নারী।
8
8
আজও তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পরেও বাবা ভাঙ্গাকে নিয়ে কৌতূহল কমেনি। ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে নানা আলোচনা হয়। কিন্তু তাঁর নামের বাবা শব্দটি আসলে কোনও রহস্যময় উপাধি নয়—বরং একটি সাংস্কৃতিক সম্বোধন, যা একজন জ্ঞানী ও বয়স্কা নারীর প্রতি সম্মান প্রকাশ করে।