বাইক চালালে কিংবা বাইকযাত্রীর হেলমেট পরা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হেলমেট পরলে চুল তাড়াতাড়ি পড়ে যায় বা টাক পড়া শুরু হয়। এই ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু সত্যি কি এটি ঠিক নাকি আদৌ হেলমেট পরলে চুলের কোনও সমস্যা হয় না? আসুন জেনে নেওয়া যাক-
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেলমেট নিজে সরাসরি চুল পড়ার কারণ নয়। চুল পড়ার আসল কারণ সাধারণত জিনগত সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ বা পুষ্টির ঘাটতি। হেলমেটের কারণে শুধু যদি চুলে টান পড়ে বা ঘাম হয়, তাহলে তা চুলের গোড়ায় চাপ বা হালকা ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু সেটিও সরাসরি টাক পড়ার কারণ নয়।
অনেকেই মনে করেন হেলমেটের ভেতর ঘাম জমলে পোর(ছিদ্র) বন্ধ হয়ে যায় এবং চুলের গোড়ায় প্রভাব পড়ে। ফলে চুল নষ্ট হবে। এক্ষেত্রে সমস্যা এড়াতে হেলমেট খোলা-বন্ধ করার সময় চুলে টান না লাগানো এবং হেলমেট সঠিকভাবে পরা জরুরি । অত্যন্ত টাইট বা ভুল ফিটের হেলমেট চুলে টান বা ঘর্ষণ তৈরি করতে পারে, যা চুল ভাঙা বা ছোট চুল পড়া বাড়াতে পারে।
আরও একটি ভুল ধারণা হল, হেলমেট চুলের গোড়ায় অক্সিজেন পৌঁছতে দেয় না। বাস্তবে চুলের গোড়া রক্তনালী থেকে অক্সিজেন পায়, বাইরের বাতাস থেকে নয়। তাই হেলমেট চুল পড়ার সরাসরি কারণ নয়। তবে ভুলভাবে খুব টাইট হেলমেট পড়ে থাকলে ঘটতে পারে ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া-চুলের গোড়ায় টান পড়ে ক্ষতি হওয়া, যা কিছু ক্ষেত্রে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে।
তবে কিছুক্ষেত্রে ঘামের কারণে স্ক্যাল্পে ব্যাকটেরিয়া জমে বা ত্বক জ্বালা সৃষ্টি হলে চুল দুর্বল হতে পারে। ভুল ফিট বা টাইট হেলমেট চুলে টান ও চাপ তৈরি করতে পারে। হেলমেটের ভেতরের ধুলা-ঘাম জমে স্ক্যাল্পের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়াও চুলের গোড়ার মানকে সাময়িকভাবে দুর্বল হতে পারে, ফলে চুল কিছুটা ভাঙতে বা পড়তে পারে। তবে এটি স্থায়ী টাক পড়া নয়।
চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হেলমেট ঠিক-মাপের নিতে হবে। খুব টাইট হেলমেট পরলে চলবে না। হেলমেটের ভিতরের লাইনার পরিষ্কার রাখুন, ঘাম ও ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। দীর্ঘক্ষণ হেলমেট পরলে মাঝে মাঝে হেলমেট খুলে চুল ও স্ক্যাল্পে বাতাস চলাচল করতে দিন। বাড়তি ঘাম হলে মাথা ধুয়ে নিন। এতে স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে।
