রাতে বিছানায় শুয়েও অনেকেরই দীর্ঘক্ষণ ঘুম আসে না। কাজের চাপ, উদ্বেগ বা অতিরিক্ত চিন্তার কারণে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকায় ঘুম দূরে সরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের একাংশ ‘কগনিটিভ শাফলিং’ (Cognitive Shuffling) বা ‘মাইক্রো ড্রিমিং’-এর মতো একটি সহজ মানসিক কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। 

এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য হল মস্তিষ্ককে দুশ্চিন্তা থেকে সরিয়ে এলোমেলো, নিরপেক্ষ চিন্তার দিকে নিয়ে যাওয়া, যাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুম নেমে আসে।

মাইক্রো ড্রিমিং কীভাবে করবেন? 
 প্রথমে একটি সাধারণ শব্দ বেছে নিতে হয়। তারপর সেই শব্দের প্রতিটি অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া বিভিন্ন জিনিস বা বস্তুর কথা কল্পনা করতে হয়। যেমন, 'কমল' শব্দটি নিলে ক দিয়ে কল, কাকাতুয়া, কাপড়—এভাবে একের পর এক ছবি মনে আনতে হবে। এরপর ম দিয়ে মা, মন, মজা, ল দিয়ে লতা, লাল, লেবু এভাবে প্রতিটা অক্ষর দিয়ে একাধিক শব্দ আর ছবি ভাবতে হবে৷ 

 এর ফলে মস্তিষ্কের মনোযোগ উদ্বেগ থেকে সরে গিয়ে এলোমেলো ও নিরপেক্ষ চিত্রে চলে যায়, যা ঘুমের আগের স্বাভাবিক মানসিক অবস্থার সঙ্গে মিলে যায়৷ 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশল ঘুমের ওষুধের বিকল্প নয়, তবে যাঁরা অতিরিক্ত চিন্তার কারণে ঘুমোতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে। এটি মস্তিষ্ককে শান্ত হতে সাহায্য করে এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে৷ 

পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা, রাতে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা, শোয়ার আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের ব্যবহার কমানো এবং আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রার সমস্যা থাকে বা ঘুমের অভাবে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসক বা স্লিপ স্পেশালিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় অনিদ্রার পিছনে অন্য শারীরিক বা মানসিক কারণও থাকতে পারে, যার জন্য প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা।