৪১ বছর বয়সেও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের তালিকায় নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। দুর্দান্ত ফিটনেস, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন এবং কঠোর অনুশীলনের জন্য তিনি বরাবরই পরিচিত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে রোনাল্ডো জানান, তিনি রাত ১০টার পর সাধারণত কারও সঙ্গে কথা বলেন না। তাঁর মতে, ওই সময় বেশি কথা বললে মস্তিষ্ক আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে সহজে ঘুম আসে না।

রোনাল্ডো বলেন, ভালো ঘুম একজন ক্রীড়াবিদের পারফরম্যান্সের অন্যতম ভিত্তি। তাই রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর তিনি ফোনে কথা বলা, দীর্ঘ আড্ডা বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনা এড়িয়ে চলেন। বরং শরীর ও মনকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করেন। তাঁর বিশ্বাস, ভাল ঘুম পরের দিনের অনুশীলন, এবং মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু ঘুম নয়, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত নিয়ম মেনে চলেন। সারাদিনে একাধিকবার অল্প অল্প করে স্বাস্থ্যকর খাবার খান, পর্যাপ্ত জল পান করেন এবং নিয়মিত ওয়ার্কআউট করেন। অ্যালকোহল ও ধূমপান থেকেও তিনি দূরে থাকেন। এসব অভ্যাসই দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভাল খেলতে সাহায্য করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শোয়ার আগে অতিরিক্ত মানসিক উদ্দীপনা, যেমন দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলা, কাজ করা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে৷ তাই ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে শরীর ও মস্তিষ্ককে শান্ত রাখার চেষ্টা করলে দ্রুত ঘুম আসতে পারে। 

রোনাল্ডোর এই অভ্যাস সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই তাঁর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সবার জীবনযাত্রা এক নয়। তাই রোনাল্ডোর অভ্যাস হুবহু অনুসরণ করার পরিবর্তে, নিয়মিত ঘুম, সুষম খাদ্য, শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।