আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস অজান্তে শরীরকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, এমনটাই সতর্ক করেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, শুধু বয়স বাড়াই নয়, কীভাবে আমরা বুড়ো হচ্ছি, তা অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের লাইফস্টাইলের উপর।


খারাপ ঘুম: অনেকেই ঠিকমতো ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোন না। ফলে শরীর নিজেকে মেরামত করার সময় পায় না। এতে ক্লান্তি, হরমোনের সমস্যা এবং ধীরে ধীরে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

 

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস: কাজের চাপ, সংসারের চিন্তা বা আর্থিক সমস্যা-এই সব মিলিয়ে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে। এতে শরীরে প্রদাহ বাড়ে, ত্বক খারাপ হয় এবং শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যায়।


ধূমপান: সিগারেট বা ভ্যাপিং শরীরের কোষের ক্ষতি করে। এতে ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যায়, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে।


অলস জীবনযাপন: অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাটান। অফিস, মোবাইল, টিভি—সব মিলিয়ে শরীরের নড়াচড়া কমে যায়। এতে রক্ত চলাচল কমে, পেশি দুর্বল হয় এবং শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।


অস্বাস্থ্যকর খাবার ও বাড়তি ওজন: বেশি তেল-মশলা, ফাস্ট ফুড, চিনি—এই সব খাবার শরীরে ফ্যাট বাড়ায়। বিশেষ করে পেটের মেদ শরীরের ভিতরে প্রদাহ তৈরি করে, যা অনেক রোগের কারণ হতে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসগুলোর খারাপ প্রভাব একদিনে বোঝা যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে এগুলো শরীরের ক্ষতি করে এবং বয়সের ছাপ দ্রুত ফুটে ওঠে। ত্বকে, এনার্জিতে, এমনকী হৃদযন্ত্রেও।


তবে এই অভ্যাসগুলো বদলানো সম্ভব। প্রতিদিন একটু নিয়ম মেনে চললেই অনেকটাই ঝুঁকি কমানো যায়। যেমন- নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম, প্রতিদিন কিছুটা হাঁটা বা ব্যায়াম, কম স্ট্রেস নেওয়ার চেষ্টা, ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। 


বয়স বাড়া থামানো যাবে না, কিন্তু সুস্থভাবে বয়স বাড়ানো আমাদের হাতেই। ছোট ছোট ভাল অভ্যাসই আপনাকে দীর্ঘদিন তরুণ ও সুস্থ রাখতে পারে।