আজকাল ওয়েব ডেস্ক: বর্তমানে স্থূলতা একটি রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে হানা দেয় একাধিক রোগ। কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো ক্রনিক অসুখ থাবা বসায়। তাই বাড়তি মেদ ঝরাতে কে না চায়! আর ওজন কমানোর প্রসঙ্গ আসলে প্রথমেই কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়ার জন্য বলা হয়। ডায়েট থেকে ওজন কমিয়ে ফেলার প্ল্যানিং করলে প্রথমেই শত্রু হয়ে ওঠে ভাত। বাঙালির খাবরের তালিকায় এত দিন মূলত ভাত থাকলেও, ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে তা থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন অনেকে। সুস্বাস্থ্যের দিকে পা বাড়াতে ভাতের বিকল্পকে খুঁজতে শুরু করেছেন তাঁরা। তাছাড়া, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যও ভাত খাওয়ায় মাপামাপি রয়েছে। তাহলে ভাতের বিকল্পে কী কী খাবার খেতে পারেন? জেনে নিন সেই বিষয়ে-

কিনোয়া- ফাইবার এবং প্রোটিনে সমৃদ্ধ কিনোয়া ভাতের বিকল্প হতে পারে। কিনোয়ার জিআই ইনডেক্স অনেকটাই কম। তাই ডায়াবিটিস রোগীদের জন্যও এই খাবার উপাদেয়। রান্না করা ১০০ গ্রাম কিনোয়াতে ক্যালোরির পরিমাণ ১৪৩। গমজাত খাবার বা গ্লুটেন সহ্য না হলে অনায়াসে কিনোয়া খেতে পারেন।

ব্রাউন রাইস- স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন মানুষ এখন ভাতের বদলে ‘ব্রাউন রাইস’-এর দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার। ফলে পেট ভরা থাকায় খিদের প্রবণতা কমে যায়। ব্রাউস রাস শরীরের রোগ প্রতিরোধও বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের গোটাশস্য শরীরে লাইপোপ্রোটিনের মাত্রা বাড়ায়। ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় থাকে। ডায়াবিটিস, হরমোনের সমস্যায় ভাতের বদলে ব্রাউন রাইস খেতেই বলেন ডাক্তাররা। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এর জুরি মেলা ভার। হৃদরোগের সমস্যা কমায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ব্রাউন রাইস। 

এছাড়াও ভাতের বদলে খেতে পারেন ওটস। ওজন কমিয়ে ঝরঝরে থাকতে ওটস মিল খাওয়ার পরামর্শ দেন ডায়েটিশিয়ানরা। ব্রেকফাস্টে বা দুপুরের মিলেও ওটস খাওয়া যেতে পারে। দুধ ও মনের মতো ফল দিয়ে যেমন ওটস খেতে পারেন, তেমনি ওটস কুকিজ, ওটস ব্রেড কিংবা সবজি দিয়ে ওটসের খিচুড়িও লাঞ্চে বেশ জমে যায়। 

ওজন কমানোর জন্য খেতে পারেন বার্লি । নাম শুনলেই অনেকে নাক সিঁটকান বটে, এই খাবার পুষ্টিগুণে ভরপুর। নিয়মিত বার্লি ডায়েটে রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয় না। হজমশক্তি বাড়ে এবং শরীরের যে কোনও রকম প্রদাহ কমে যায়। গলব্লাডারে স্টোন ঠেকাতে বার্লির বিশেষ উপকারিতা আছে। এতে এমন একধরনের ফাইবার থাকে যা গলব্লাডারে স্টোন জমতেই দেয় না। হার্ট ভাল রাখে বার্লি। খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমিয়ে হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়।