পশ্চিম এশিয়ায় চলা আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঐতিহ্যগতভাবে “সেফ হেভেন” বা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
2
11
এতদিন সেই তালিকায় শীর্ষে ছিল সোনা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—মার্কিন ডলার কি সোনার জায়গা দখল করতে পারে?
3
11
সাম্প্রতিক বাজারে দেখা যাচ্ছে যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্কিন ডলার কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে বেরিয়ে এসে ডলার এবং মার্কিন সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন। একইসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনীতি এবং জ্বালানিতে তুলনামূলক স্বনির্ভরতা ডলারকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।
4
11
তবে চিত্রটা এতটা সরল নয়। একদিকে যেমন কিছু সময়ের জন্য ডলার “সেফ হেভেন” হিসেবে কাজ করছে, অন্যদিকে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন এই সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
5
11
একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ডলারের যে উত্থান হয়েছে, তা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে এবং এর ঐতিহ্যগত নিরাপদ আশ্রয়ের মর্যাদা কিছুটা ক্ষয় হচ্ছে ।
6
11
অন্যদিকে, সোনার পারফরম্যান্স এই সময়ে বেশ অস্বাভাবিক। সাধারণত যুদ্ধ বা সংকটের সময় সোনার দাম বাড়ে, কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। মার্চ মাসে সোনার দাম বড়সড় পতনের মুখে পড়েছে, যা ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স । এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে উচ্চ সুদের হার, শক্তিশালী ডলার এবং তেলের দাম বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা।
7
11
তেলের দাম বেড়ে যাওয়াও এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধের ফলে সরবরাহে ধাক্কা লেগে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০% এর বেশি বেড়েছে ।
8
11
এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিকে সুদের হার কমাতে নিরুৎসাহিত করছে। এই পরিবেশে সোনার মতো নন-ইয়িল্ডিং সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়, আর ডলার তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে।
9
11
তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনার গুরুত্ব এখনও অটুট। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে সোনা এখনও একটি নির্ভরযোগ্য রিজার্ভ অ্যাসেট হিসেবে বিবেচিত হয় ।
10
11
গবেষণায়ও দেখা গেছে, তেলের বাজারে অস্থিরতার সময় অনেক ক্ষেত্রে মুদ্রা—বিশেষ করে ডলার—স্বল্পমেয়াদে ভাল সেফ হেভেন হিসেবে কাজ করতে পারে , কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দেয়।
11
11
সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলার সাময়িকভাবে সোনার বিকল্প হিসেবে উঠে এলেও, এটি স্থায়ী নয়। স্বল্পমেয়াদে ডলার, দীর্ঘমেয়াদে সোনা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বৈচিত্র্যপূর্ণ পোর্টফোলিও তৈরি করা, যাতে এই অনিশ্চিত সময়ে ঝুঁকি কমানো যায়।