ইদানীং অল্প বয়সেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের মতো ক্রনিক রোগ। নেপথ্যে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম, শরীরচর্চার অভাব সহ রয়েছে বিভিন্ন কারণ। যার জন্য শুধু ওষুধের উপর নয়, হাতের কাছের কিছু ঘরোয়া প্রতিকারেও ভরসা রাখতে পারেন। তবে জানেন কি এই ক্রনিক অসুখ বশে রাখতে পারে ইসবগুলও। হ্যাঁ, শুধুই কোষ্ঠকাঠিন্যের উপশম নয়, অনেক রোগে নিয়মিত ইসবগুল খেলে উপকার পাওয়া যায়।

ইসবগুলের ভুসির সঙ্গে মোটামুটি সকলেই পরিচিত। বহু বছর ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া এবং পেট সম্পর্কিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এটি। ইসবগুলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার পাওয়া যায়, যার কারণে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। এতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। ১ টেবিল চামচ ইসবগুলে থাকে ৫৩ শতাংশ ক্যালোরি, ১৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১৫ গ্রাম শর্করা, ৩০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৯ মিলিগ্রাম আয়রন। ইসবগুলে কোনও ফ্যাট থাকে না। 

ইসবগুলি দেখতে গম গাছের মতোই। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই উদ্ভিদকে বলা হয় সাইলিয়াম ভুষি। সাদা রঙের বীজ এই গাছের ডালে লেগে থাকে, যাকে ইসবগুলের ভুসি বলে। এই ভুষি পেটের রোগের প্রতিষেধক বলা হয়। ইসবগুলের ভুসি পেটের জলীয় ভাগ দ্রুত শোষণ করে, যা হজম সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে। 

আরও পড়ুনঃ কড়া ডায়েট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম করেও কমবে না ওজন! সকালের এই সব অভ্যাসেই লুকিয়ে মেদ ঝরানোর সিক্রেট

প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় হার্ট ভাল রাখতে নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ থেকে দূরে রাখে। প্রস্রাবের সমস্যায় উপকারী খাবার ইসবগুল। এটি নিয়মিত খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমবে। আখের গুড়ের সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে খেলে বেশি উপকার পাবেন। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করার অন্যতম ঘরোয়া উপায় হতে পারে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া। এটি পাকস্থলীর দেওয়ালকে অ্যাসিডের জন্য ক্ষয়ে যেতে দেয় না। এছাড়াও ডায়রিয়া প্রতিরোধেও ভূমিকা রয়েছে ইসবগুলের। 

কীভাবে খাবেনঃ 

১. এক গ্লাস গরম জলে এক চা চামচ ইসবগুল মিশিয়ে নিন। রাতের খাবারের পর এভাবে এক গ্লাস ইসবগুল খেয়ে নিন। তার কয়েক মিনিট পর অন্তত ১ গ্লাস জল খান। ১ গ্লাস জলের সঙ্গে রোজ ইসবগুল খেতে পারেন ১০-২০ গ্রাম। 

২. ওজন কমাতে ত্রিফলা এবং ইসবগুল দিয়ে একটি পানীয় তৈরি করে পান করতে পারেন। এর জন্য এক গ্লাস হালকা গরম জলে ইসবগুলের ভুসি এবং এক চামচ ত্রিফলা গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। প্রায় ২ মিনিটের জন্য ভালভাবে মেশানোর পর পান করুন। এটি অন্ত্র পরিষ্কারের পাশাপাশি ওজন কমাতেও কার্যকরী। 

৩. ইসবগুল দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ডায়রিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দইয়ে প্রোবায়োটিক থাকে যা পাকস্থলীর ইনফেকশন সারাতে কাজ করে। এক বাটি দই নিয়ে তাতে এক চামচ ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে নিন। তারপর কিছুক্ষণ এভাবে রেখে খান। এতে পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া শক্তিশালী হয় যা হজমশ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বাড়তি মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। 

৪. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটেও ইসবগুল খেতে পারেন। এর জন্য এক গ্লাস জলে ১ চামচ ইসবগুলের ভুসি মেশান। প্রায় ২ মিনিট রেখে সেই জল পান করুন। এটি পাকস্থলীর পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং কোমরের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমায়।