রোজ রাতেই পাশে শোওয়া মানুষের আপনার নাক ডাকার জন্য ঘুম ভেঙে যায়? ঘুমের ঘোরে অনেকে এমনই সশব্দে নাক ডাকেন। অনেকে এই সমস্যাকে খুব একটা পাত্তা দেন না। সাধারণত ঘুমন্ত অবস্থায় নাক, মুখ, গলা থেকে শুরু করে শ্বাসনালীর কোনও অংশে বায়ু বাধা পেলে এমন শব্দ তৈরি হয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না এই নাক ডাকার নেপথ্যে থাকতে পারে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি। যা বেশিরভাগ মানুষই বুঝতে পারেন না। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বহু মানুষের শরীরেই ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম। এই ভিটামিন শুধু হাড় মজবুত রাখে না, একইসঙ্গে পেশি, শ্বাসনালি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। 

কীভাবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে নাক ডাকা বাড়ে? চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিটামিন ডি শরীরের বিভিন্ন পেশিকে শক্ত রাখে। এর মধ্যে রয়েছে গলা ও শ্বাসনালির পেশি। যখন ভিটামিন ডি কমে যায়, তখন এই পেশিগুলো ঢিলে হয়ে পড়ে। ফলে ঘুমের সময় শ্বাসনালি আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বাতাস চলাচলের সময় শব্দ তৈরি হয়। যাকে আমরা নাক ডাকা বলে বুঝি।

এছাড়া ভিটামিন ডি কম থাকলে শরীরে প্রদাহ বা ভিতরের ফোলাভাব বাড়তে পারে। এর প্রভাব নাক ও গলার ভেতরেও পড়ে। ফলে শ্বাস নেওয়া আরও কঠিন হয়ে যায় এবং নাক ডাকার সমস্যা বাড়ে। এক্ষেত্রে শুধু নাক ডাকা নয়, আরও লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 

চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন ডি-এর -এর ঘাটতি হলে শুধু নাক ডাকা নয়, আরও বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন সারাদিন ক্লান্ত লাগা, ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, পেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা, বারবার সর্দি-কাশি হওয়া, মন খারাপ বা মনোযোগ কমে যাওয়া। 

কীভাবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ করবেন? ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বাড়ানো খুব কঠিন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট রোদে থাকা খুব উপকারী। ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ, মাশরুমের মতো খাবার খাওয়া ভাল। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি-এর সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। 

যদি নিয়মিত নাক ডাকার সমস্যা থাকে, ঘুম ভেঙে যায় বা সকালে উঠে ক্লান্ত লাগে, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন না। চিকিৎসকদের মতে, এক্ষেত্রে ভিটামিন-এর মাত্রা পরীক্ষা করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর অভ্যাস নয়, অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি সেই সমস্যাগুলির অন্যতম। তাই ঘুমের সমস্যা হলে শুধু অভ্যাস নয়, শরীরের পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।