আজকাল আধুনিক জীবনযাপনের জাঁতাকলে অল্পবয়সেই হানা দিচ্ছে হাঁটু কিংবা পিঠের ব্যথার মতো সমস্যা। যার জন্য ওষুধ খেয়েও অনেক সময় স্বস্তি পাওয়া যায় না। আর এমন পরিস্থিতিতেই নাকি কামাল করতে পারে ঘরোয়া টোটকা। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তেমনই একটি টোটকা বেশ ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে মোজার মধ্যে কয়েকটি তেজপাতা রেখে দিলে হাঁটু,পায়ের পাতা এবং পিঠের ব্যথা নাকি দ্রুত কমে যায়। টানা এক সপ্তাহ এই পদ্ধতি মেনে চললেই নাকি মিলবে চোখে পড়ার মতো ফল, এমন মত প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ।
তবে এই দাবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রশ্ন। চিকিৎসকরা বলছেন, তেজপাতা মোজার মধ্যে রেখে ব্যথা কমার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, এটি নিশ্চিতভাবে কার্যকর চিকিৎসা, এমন কথা বলা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেজপাতায় কিছু প্রাকৃতিক সুগন্ধি তেল থাকে, যা হালকা আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে। এই গন্ধে অনেক সময় মন শান্ত হয় এবং ঘুম ভাল হতে পারে। আর ভাল ঘুম হলে শরীরের ব্যথা কিছুটা কম মনে হওয়া স্বাভাবিক। তবে এটি সরাসরি ব্যথা সারিয়ে তোলে, এমন দাবি অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।
এছাড়াও, এই ধরনের টিপস কাজ করছে বলে মনে হওয়ার পেছনে 'প্লাসিবো ইফেক্ট' বড় কারণ হতে পারে। অর্থাৎ, কোনও পদ্ধতি কাজ করবে বলে বিশ্বাস করলে শরীরও সেই অনুযায়ী ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। পাশাপাশি মোজা পরে ঘুমালে পা গরম থাকে, যা রক্তসঞ্চালন কিছুটা বাড়িয়ে সাময়িক আরাম দিতে পারে।
অনেক ভাইরাল পোস্টে আরও বলা হচ্ছে, 'পা শরীরের প্রবেশদ্বার'-এই ধারণা থেকেই নাকি তেজপাতার প্রভাব শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে চিকিৎসকদের স্পষ্ট মত, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধারণার কোনও ভিত্তি নেই।
তাহলে কি এই পদ্ধতি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে তেমন ক্ষতি না থাকলেও এটিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যদি কারও নিয়মিত হাঁটু, পা বা পিঠে ব্যথা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ব্যথা কমাতে প্রমাণিত কিছু উপায়ও রয়েছে। যেমন নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং, গরম সেঁক নেওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে না থাকা। এসব অভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
সবমিলিয়ে, তেজপাতা মোজায় রাখার এই টিপসটি আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর না হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তাই ভাইরাল তথ্যের উপর ভরসা না করে, স্বাস্থ্য সমস্যায় সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
