আজকাল ওয়েবডেস্ক: রান্নাঘরের ডাস্টবিনে যে পচা ডিমটা আমরা এক মুহূর্ত না রেখে ফেলে দিই, তারও নাকি একটা নিজস্ব বাজার আছে! অবাক শোনালেও এটাই সত্যি। তবে এই সত্যিটার যেমন একটা ভালো দিক আছে, তেমনই এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার ও ভয়ঙ্কর ব্যবসা। সম্প্রতি পচা ডিমের বহুমুখী ব্যবহার এবং তার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে এসেছে, যা সাধারণ মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

প্রথমেই আসা যাক এর ইতিবাচক ব্যবহারের কথায়। চাষবাস বা বাগানের শৌখিন মানুষদের কাছে পচা ডিম কিন্তু মোটেও ফেলনা নয়। পচে যাওয়ার পর ডিম থেকে যে নাইট্রোজেন এবং হাইড্রোজেন সালফাইড তৈরি হয়, তা মাটির উর্বরতা বাড়াতে চমৎকার সারের কাজ করে। শুধু তাই নয়, পচা ডিমের তীব্র দুর্গন্ধকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয় এক ধরণের প্রাকৃতিক কীটনাশক, যা বাগানের গাছপালাকে ক্ষতিকর পোকামাকড় বা খরগোশের উপদ্রব থেকে দূরে রাখে। আবার চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ বা ট্যানারি শিল্পেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে। কাঁচা চামড়াকে নরম ও মসৃণ করার জন্য বিভিন্ন দামি ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে ট্যানারি কারখানায় পচা ডিমের দেদার ব্যবহার হয়।

কিন্তু মুদ্রার ওপিঠটা অত্যন্ত অন্ধকার। এই পচা ডিমকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের চক্র। সস্তায় পাওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে কিছু বেকারি, ফাস্টফুড বা রেস্তোরাঁ মালিক গোপনে এই পচা ডিম কিনে নিচ্ছেন। আর তা দিয়েই দেদার তৈরি হচ্ছে আমাদের অতি প্রিয় কেক, বিস্কুট, পেটিস বা চাউমিনের মতো খাবার। যা খাদ্য নিরাপত্তা আইনের তো বটেই, সমস্ত রকম মানবিকতার পরিপন্থী। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, এই পচা ডিমের খাবার পেটে গেলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ‘সালমোনেলা’ বা ‘ই. কোলাই’-এর মতো মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়া। এর ফলে সাধারণ ফুড পয়েন্টজনিং থেকে শুরু করে লিভার ও পেটের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই সারের উপাদান হিসেবে যা মাটির জন্য অমৃত, তা থালায় সাজিয়ে মানুষের পেটে চালান করার এই অসাধু চক্রান্তের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির দাবি তুলছেন সচেতন মহল।