হেঁচকির সঙ্গে কম-বেশি সকলেই পরিচিত। খাওয়ার সময় অতিরিক্ত ঝাল লাগলে, কাশি হলে, গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিংবা অফিসে জরুরি মিটিংয়ের মাঝে বা ঘুমের মধ্যেও হেঁচকির কারণে অস্বস্তি পোহাতে হয়। হেঁচকি নিয়ে জীবনে কখনও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়নি, এমন মানুষ বিরল।

আমাদের বুক ও পেটের মাঝখানে থাকা ডায়াফ্রাম নামের একটি পেশি হঠাৎ সংকুচিত হলে হেঁচকি শুরু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকলে কিছু ঘরোয়া উপায় কাজে লাগতে পারে।

হেঁচকি থামানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো এক চামচ চিনি খাওয়া। চিনির দানা গলার স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে, ফলে হেঁচকি কমতে পারে। ধীরে ধীরে এক গ্লাস ঠান্ডা জল পান করলেও অনেক সময় দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

আরেকটি কার্যকর উপায় হল কয়েক সেকেন্ড শ্বাস আটকে রাখা। এতে শরীরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায়, যা ডায়াফ্রামকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করতে পারে। কেউ কেউ গভীর শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ার পরামর্শও দেন।

রান্নাঘরে থাকা এলাচও হেঁচকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এক কাপ গরম জলে ২-৩টি এলাচ ফুটিয়ে সেই জল পান করলে উপকার পেতে পারেন। আদার ছোট টুকরো চিবিয়ে খাওয়া, এক চামচ মধু খাওয়া বা কয়েক ফোঁটা লেবুর রস খেলেও অনেকের হেঁচকি কমে যায়।

এছাড়াও বরফকুচি খাওয়া, হালকা গার্গল করা, জিভ আলতো করে টেনে ধরা, হাঁটু বুকের কাছে টেনে বসা, সামান্য ভিনেগার খাওয়া বা চিনেবাদামের মাখন মুখে রেখে ধীরে ধীরে গিলে ফেলার মতো পদ্ধতিও জনপ্রিয়। পুদিনা, মৌরি, দই, ক্যামোমাইল চা এবং গরম জল পান করাও অনেকের ক্ষেত্রে উপকারী বলে মনে করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, হেঁচকি এড়াতে খাবার ধীরে ধীরে খাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল বা গ্যাসযুক্ত পানীয় কম খাওয়া এবং খাবারের সময় বেশি কথা না বলার অভ্যাস করা ভাল।

তবে মনে রাখতে হবে, ঘরোয়া উপায় সবসময় সকলের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে। যদি হেঁচকি ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, বারবার ফিরে আসে বা এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বমি, মাথা ঘোরা কিংবা অন্য কোনও গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি কখনও কখনও স্নায়ু, পরিপাকতন্ত্র বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।