অনেক সময় দেখা যায়, কোনও বিশেষ কারণ ছাড়াই মুখের ত্বক ধীরে ধীরে কালচে হয়ে যাচ্ছে। কেউ ভাবেন এটি রোদে বেশি থাকার ফল, আবার কেউ মনে করেন বয়স বাড়ার কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সব সময় বিষয়টি এত সহজ নয়। অনেক ক্ষেত্রে মুখের ত্বকের রং হঠাৎ বদলে যাওয়া শরীরের ভেতরে থাকা কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে লিভারের অসুখ বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এর অন্যতম কারণ।

লিভার আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি রক্ত পরিষ্কার করা, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া এবং বিভিন্ন বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যখন লিভার ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, তখন শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। তার মধ্যে একটি হলো ত্বকের রঙের পরিবর্তন। অনেকের মুখ, ঘাড় বা শরীরের বিভিন্ন অংশে কালচে ছোপ বা দাগ দেখা দিতে পারে। কখনও কখনও ত্বক আগের তুলনায় অনেক বেশি নিস্তেজ ও মলিন দেখায়।

শুধু লিভারের সমস্যা নয়, হরমোনের পরিবর্তনও ত্বকের রং গাঢ় হওয়ার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, থাইরয়েডের সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) বা মেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে মুখে কালচে দাগ তৈরি হতে পারে। এই অবস্থাকে অনেক সময় মেলাজমা বলা হয়। সাধারণত কপাল, গাল, নাক ও ঠোঁটের উপরের অংশে এই দাগ বেশি দেখা যায়।

এছাড়া ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকলেও ঘাড়, বগল কিংবা মুখের কিছু অংশ কালচে হয়ে যেতে পারে। তাই ত্বকের এমন পরিবর্তনকে শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

লিভারের সমস্যার ক্ষেত্রে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ত্বকে চুলকানি, চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, পেট ফোলা, ক্ষুধামন্দা বা সহজে কালশিটে পড়ে যাওয়া। যদি এসব উপসর্গের সঙ্গে ত্বকের রঙও বদলাতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তবে মুখ কালচে হওয়ার পিছনে সব সময় গুরুতর রোগ দায়ী নয়। অতিরিক্ত রোদে থাকা, দূষণ, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ত্বকের যত্নের অভাবেও এমন হতে পারে।

হঠাৎ ত্বকের রং বদলে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা, লিভার ফাংশন টেস্ট বা হরমোন পরীক্ষা করাতে পারেন। কারণ ত্বক অনেক সময় শরীরের ভেতরের সমস্যার প্রথম সতর্কবার্তা দেয়। সেই সংকেতকে গুরুত্ব দিলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।