গরমে আপাতত ত্রাহিরব বাঙালির ঘরে ঘরে। রোদে-ঘামে নাকাল, বাইরে বেরোলে প্রাণান্ত। খেতেও যেন ইচ্ছে করে না! আর একটু ভারী খাবার খেলেই গ্যাস-অম্বল, পেটের গোলমালে নাজেহাল দশা। যে বাঙালি রসনায় তেল-ঝাল-মশলার এত রকম স্বাদ, তারও ইদানীং খাবারের পাতে মশলাদার খাবারের নো এন্ট্রি। হজমের গোলমাল এড়িয়ে পেট ঠান্ডা রাখতে তাই একেবারে হাল্কা খাবার, সরবতেই আস্থা রাখতে চাইছেন সকলে। অনেকেই ভাবেন, কম তেল-মশলার রান্না মানেই বিস্বাদ। অথচ বাঙালি হেঁশেলেই কিন্তু এমন অনেক পদ রয়েছে, যা তেল-মশলার দিক থেকে হাল্কা অথচ স্বাদেও দারুণ। এই গরমে রইল তেমনই কিছু চেনা-অচেনা পদের হদিশ, যা রেঁধেও ফেলা যাবে সহজেই।
শসার শুক্তো
যা লাগবে: মাঝারি আকারের শসা- ২টো (কুচোনো), উচ্ছে – ১টি বা দুটি (ছোট করে কাটা), রাঁধুনি – আধ চা চামচ, আদা বাটা – ১ চামচ, দুধ – ২০০ মিলিলিটার, নুন ও চিনি- স্বাদমতো, ঘি – ১ টেবিল চামচ, সাদা তেল- ১ টেবিল চামচ
যেভাবে বানাবেন: তেল গরম করে তাতে রাঁধুনি ফোড়ন দিন। এর মধ্যে পাতলা করে কাটা উচ্ছের টুকরো দিয়ে হাল্কা করে ভাজুন। এরপরে তাতে দিন শসার কুচি। নাড়াচাড়া করতে থাকুন। তাতে দিন খানিকটা আদা বাটা। ফের নাড়তে থাকুন। এবার তাতে পরিমাণ মতো নুন ও চিনি মেশান। তারপরে তাতে দুধ ঢেলে দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। শসা ও উচ্ছে সেদ্ধ হয়ে এলে নামানোর আগে অল্প ঘি দিন। শসার শুক্তো তৈরি।

আমের টক ডাল
যা লাগবে: মুসুর ডাল - ১ কাপ, কাঁচা আম – ১টি (খোসা ছাড়িয়ে লম্বা টুকরো করে কাটা), গোটা সর্ষে বা জিরে – ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো – আধ চা চামচ, শুকনো লঙ্কা – ১ বা ২টি, কাঁচা লঙ্কা – ২ বা ৩টি (মাঝখান থেকে চেরা), সর্ষের তেল – ২ টেবিল চামচ, নুন ও চিনি – স্বাদ মতো, জল – প্রয়োজন মতো
যেভাবে বানাবেন:অল্প নুন, হলুদ ও জল দিয়ে প্রেশার কুকারে ডাল সেদ্ধ বসান। একটি বা দু’টি সিটি দিয়ে নামিয়ে নিন। এবার তেল গরম করে তাতে গোটা সর্ষে ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। মশলার গন্ধ পাওয়া গেলে আমের টুকরো ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিন তাতে। আমের টুকরো হাল্কা ভাজা ভাজা হয়ে এলে তাতে সেদ্ধ করে রাখা ডাল ঢেলে দিন। টক ডাল খানিকটা পাতলা হয়। সেই অনুপাতে গরম জল মিশিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকুন। পরিমাণ মতো নুন-চিনি মেশান। ডাল ফুটতে শুরু করলে ঢেকে দিন। মাঝারি আঁচে আম সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না হতে দিন। আম সেদ্ধ হয়ে গেলে টক, নুন, মিষ্টির স্বাদ ঠিক আছে কিনা দেখে নিয়ে নামিয়য়ে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন ভাতের সঙ্গে।

তরমুজের খোসার পায়েস
যা লাগবে: তরমুজের সাদা অংশ – ১টি, ঘি – ১ টেবিল চামচ, দুধ – আধ লিটার, গুঁড়ো দুধ – ১ টেবিল চামচ, চিনি – স্বাদ মতো, নুন- ১ চিমটে, এলাচ- ৫ বা ৬টি, দারচিনি – ১টি স্টিক, কাজু ও কিশমিশ – সাজানোর জন্য
যেভাবে বানাবেন: তরমুজের সাদা খোসা থেকে সবুজ অংশ ছাড়িয়ে নিন। এবার সাদা খোসা গ্রেট করে একটু ভাপিয়ে নিন। ভাপানোর পর সমস্ত জল বার করে নিতে হবে। এবার প্যানে সেই ভাপানো সাদা খোসা ঢেলে নাড়াচাড়া করতে থাকুন। শুকিয়ে ঝরঝরে হয়ে গেলে তুলে নিন। এবার প্যানে ঘি গরম করে তাতে এলাচ ও দারচিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। এরপর তরমুজের সাদা খোসা তাতে দিয়ে হাল্কা করে ভাজুন। রং বদলে গেলে নামিয়ে নিন। এবার দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। তাতে মিশিয়ে দিন গুঁড়ো দুধ। এবার তাতে ভেজে রাখা তরমুজের খোসা দিয়ে মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন। মিনিট পাঁচেক পরে স্বাদ মতো চিনি ও একেবারে সামান্য নুন মেশান। দুধ ফুটে একটু মাখা মাখা হয়ে এলে নামিয়ে নিন। গরম থাকতে থাকতে কাজু-কিশমিশ সাজিয়ে পরিবেশন করুন তরমুজের খোসার পায়েস।

গন্ধরাজ ঘোল
যা লাগবে: টক দই – ১ কাপ, জল – ২ কাপ, গন্ধরাজ লেবুর রস – ১ চা চামচ, কাঁচা লঙ্কা – ১টি (কুচোনো), বিট নুন – আধ চা চামচ, ভাজা মশলার গুঁড়ো – আধ চা চামচ, চিনি – ২ টেবিল চামচ, গন্ধরাজ লেবুর খোসা – সামান্য, বরফ পরিমাণ মতো
যেভাবে বানাবেন:গন্ধরাজ লেবুর খোসা, ভাজা মশলা গুঁড়ো ও বরফ বাদে সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার শরবতের গ্লাসে গ্লাসে ঢেলে নিন। গ্লাসের ধার বরাবর গন্ধরাজ লেবুর পাতা ঘষে নিন। এবার সামান্য লেবুর রস, বিটনুন ও ভাজা মশলার গুঁড়ো মাখিয়ে নিন গ্লাসের ধার বরাবর। শরবতের উপরে বরফের টুকরো বা কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।















