আগে মনে করা হত, হাঁটুতে ব্যথা শুধু বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু এখন চিকিৎসকেরা মনে করেন, ৩০–এর কোঠাতেই অনেকের হাঁটু দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিঁড়ি ওঠা বা নামার সময় যদি হাঁটুতে ব্যথা, টান, চাপ বা কটকট শব্দ হয়, তাহলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। এটি ভবিষ্যতে বড় জয়েন্ট সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, সিঁড়ি ব্যবহার করার সময় হাঁটুর ওপর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি চাপ পড়ে। তাই হাঁটুর ভিতরের কার্টিলেজ, লিগামেন্ট বা পেশিতে সামান্য সমস্যা থাকলেও তখন ব্যথা বেশি বোঝা যায়। প্রথমে শুধু সিঁড়ি ওঠার সময় ব্যথা হয়, পরে হাঁটা, দৌড়ানো বা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও অস্বস্তি শুরু হতে পারে।


এখনকার জীবনযাত্রাও এই সমস্যার বড় কারণ। অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় চেয়ার বা বিছানায় বসে কাটান। শরীরচর্চা কম হওয়ায় পায়ের পেশি দুর্বল হয়ে যায়। ফলে হাঁটুর ওপর চাপ বাড়ে। আবার হঠাৎ জিমে গিয়ে বেশি ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলেও হাঁটুতে চোট লাগতে পারে। অতিরিক্ত ওজন থাকলেও হাঁটু দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে।


মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। কারণ শরীরে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি–এর ঘাটতি থাকলে হাড় দুর্বল হয়। এছাড়া হরমোনের পরিবর্তনের প্রভাবেও জয়েন্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে।


চিকিৎসকেরা বলছেন, কিছু লক্ষণ দেখলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন সিঁড়ি ওঠানামার সময় ব্যথা, হাঁটু ভাঁজ করতে সমস্যা, হাঁটার সময় কটকট শব্দ, হাঁটু ফুলে যাওয়া, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাঁড়াতে কষ্ট হওয়া, হাঁটু শক্ত লাগা। এই লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অবহেলা করলে পরে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যা হতে পারে। তখন হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে যেতে পারে।


হাঁটু ভাল রাখতে কয়েকটি অভ্যাস খুব জরুরি। যেমন নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করলে পায়ের পেশি শক্ত থাকে। বিশেষ করে উরুর পেশি শক্তিশালী হলে হাঁটুর ওপর চাপ কম পড়ে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। দুধ, ডিম, মাছ, বাদাম, শাকসবজি, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হাড় ও জয়েন্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। রোদে কিছুক্ষণ থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি বাড়ে, যা হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয়।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হাঁটুর ব্যথাকে ছোট সমস্যা ভেবে এড়িয়ে না যাওয়া। শরীর অনেক সময় ছোট ছোট লক্ষণের মাধ্যমে বড় সমস্যার আগাম ইঙ্গিত দেয়। তাই সময়মতো সচেতন হলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব