আজকাল প্রায় সব বাড়িতেই খাবার মোড়ানো বা সংরক্ষণের জন্য অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার করা হয়। অবশিষ্ট খাবার ঢেকে রাখা, টিফিন প্যাক করা কিংবা রান্নার সময় ফয়েলে মুড়ে রাখা-সব কাজেই এটি খুব জনপ্রিয়। কিন্তু জানেন কি, এই অভ্যাস আপনার ও আপনার পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য ধীরে ধীরে ক্ষতির কারণ হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ভুল ব্যবহার নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

কীভাবে খাবারে মেশে অ্যালুমিনিয়াম? অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল সরাসরি খাবারের সংস্পর্শে এলে, বিশেষ করে যদি সেই খাবার টক, ঝাল বা বেশি নুনযুক্ত হয়, তাহলে ফয়েল থেকে অ্যালুমিনিয়ামের কণা খাবারের মধ্যে মিশে যেতে পারে। যেমন টমেটো, লেবু, আচার, ভিনিগার দেওয়া খাবার ফয়েলে রাখলে এই ঝুঁকি আরও বেশি বাড়ে। গরম খাবার বা দীর্ঘ সময় ফয়েলে রাখা খাবারেও একই সমস্যা দেখা যায়।

শরীরে কী ক্ষতি হতে পারে? অল্প পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম শরীর কিছুটা সহ্য করতে পারে। কিন্তু নিয়মিতভাবে এই ধাতু শরীরে ঢুকলে সমস্যা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম শরীরে জমলে কিডনি দুর্বল হতে পারে, হাড়ের ক্ষয় হতে পারে এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপরও খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

অনেকেই ভাবেন, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে মোড়া খাবার অনেকদিন ভাল থাকে। কিন্তু বাস্তবে ফয়েল পুরোপুরি বায়ুরোধক নয়। এর মধ্যে বাতাস ঢুকে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। ফলে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকিও বাড়ে। 

অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল মাইক্রোওয়েভে ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক নয়। এতে আগুন বা স্পার্ক তৈরি হতে পারে। এছাড়া খুব বেশি তাপে রান্না বা গ্রিল করার সময় ফয়েল ব্যবহার করলে অ্যালুমিনিয়াম দ্রুত খাবারের মধ্যে মিশে যায়। 

খাবার সংরক্ষণের জন্য কাঁচ বা স্টিলের পাত্র বা সিরামিক কন্টেইনার ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। গরম খাবার ঢাকতে চাইলে ঢাকনাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করুন। বেকিং বা রান্নার সময় বাটার পেপার বা বেকিং পেপার ফয়েলের চেয়ে ভাল বিকল্প।

অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার না হলেও, এর ব্যবহার সীমিত করা খুব জরুরি। বিশেষ করে প্রতিদিন খাবার রাখার জন্য ফয়েলের উপর ভরসা না করাই শ্রেয়। এক্ষেত্রে একটু সচেতন হলেই পরিবারের স্বাস্থ্যের বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।