আজকাল জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ,সবেতেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি। তাহলে দেশ চালাতেই বা পিছিয়ে থাকবে কেন এই অত্যাধিক প্রযুক্তি! এবার সেই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে আলবেনিয়া। ইতিমধ্যে দুর্নীতি রুখতে সরকারী দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার তদারকি শুরু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ভার্চুয়াল মন্ত্রী। নাচ 'ডিয়েলা'।  সরকারি খরচ ও দরপত্র ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্ব কমিয়ে আনাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী এদি রামা। 


আলবেনীয় ভাষায় 'ডিয়েলা' শব্দটির অর্থ 'সূর্য'। জানুয়ারি মাস থেকে এটি ই-আলবেনিয়া নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চালু রয়েছে। বর্তমানে নাগরিকদের প্রায় ৯৫ শতাংশ সরকারি পরিষেবা যেমন বিভিন্ন নথিপত্র, আবেদনপত্র ও তথ্যসংক্রান্ত কাজ এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ডিয়েলা সেখানে নাগরিকদের সহায়তা করছে। তাঁকে সাধারণত ঐতিহ্যবাহী আলবেনীয় পোশাকে ভার্চুয়াল রূপে দেখা যায়।

 

ভবিষ্যতে দরপত্র মূল্যায়ন ও বিজয়ী নির্বাচনের কাজ ধাপে ধাপে এআই-এর হাতে তুলে দিতে চায় আলবেনিয়া সরকার। কারণ সেদেশের প্রসাশনের মতে, এতে মানুষের হস্তক্ষেপ কমবে, আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের সুযোগ কমবে। সরকারের দাবি, সব ধরনের সরকারি খরচ ও দরপত্র ব্যবস্থা হবে ১০০ শতাংশ স্বচ্ছ ও ন্যায্য।


ঠিক কী কী লাভ হতে পারে-

* দুর্নীতি হ্রাস ও জনআস্থা বৃদ্ধি

* দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন

* নাগরিকদেএ সরকারি অফিসে যাতায়াতের ঝামেলা কমানো


ডিয়েলা বর্তমানে আলবেনিয়ার প্রশাসনে প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। এটি সফল হলে কেবল আলবেনিয়াই নয়, অন্যান্য দেশও দুর্নীতি দমনে একই পথে হাঁটতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে কীভাবে সরকার প্রযুক্তির সঙ্গে স্বচ্ছতা ও মানবিক বিবেচনাকে সমন্বয় করতে পারে।


যদিও  বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এআই সিস্টেমও মানুষের তৈরি, ফলে তাতে ভুল বা অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত থাকতে পারে। হ্যাকিংয়ের ঝুঁকিও থেকে যায়। এছাড়া সব সিদ্ধান্ত কেবল প্রযুক্তির হাতে তুলে দিলে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিক বিবেচনার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখা জরুরি।