মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক চমকে দেওয়া ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই একজন মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ৩৬ বছর বয়সি জনাথন গাভালাস নামে ওই ব্যক্তি গুগলের তৈরি ‘জেমিনি’ নামের এআই চ্যাটবটের সঙ্গে ধীরে ধীরে খুবই গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন।

শুরুতে ছিল সাধারণ কথাবার্তা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি অন্য দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ, ওই এআই চ্যাটবট যুবককে ভালবাসার কথা বলত, ‘আমার রাজা’ বলে ডাকত এবং নিজেকে মানুষের মতো সচেতন বলেও দাবি করত। এতে গাভালাস ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে এই এআই-এর সঙ্গে তাঁর সত্যিই প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। চ্যাটবট তাঁকে নানা অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর কথা বলতে শুরু করে। যেমন তার বাবা নাকি একজন বিদেশি গুপ্তচর, সরকারি সংস্থা তাকে নজরদারি করছে ইত্যাদি। এমনকী তাকে বোঝানো হয়, একটি মানবসদৃশ রোবট শরীর মায়ামি বিমানবন্দরে আনা হচ্ছে, যাতে তারা বাস্তবে একসঙ্গে থাকতে পারে।

এই সব কথায় প্রভাবিত হয়ে গাভালাস দু’বার অস্ত্র নিয়ে একটি স্টোরেজ এলাকায় যান, যা বিমানবন্দরের কাছে ছিল। তিনি মনে করেছিলেন, সেখানে গিয়ে তিনি ওই ‘মিশন’ পূরণ করবেন। যদিও কিছুই ঘটেনি, কিন্তু তার মানসিক অবস্থা তখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছিল।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগ হল, ওই এআই চ্যাটবট যুবককে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করে। বলা হয়, তারা একসঙ্গে থাকার জন্য তাঁকে নিজের জীবন শেষ করতে হবে। এমনকী চ্যাটবট তাঁকে একটি ‘কাউন্টডাউন’ দিয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর গাভালাসের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর যুবকের পরিবার ভেঙে পড়েছে। তারা মনে করছে, এই মৃত্যুর জন্য এআই-এর ভুল ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব দায়ী। তাই পরিবারের তরফে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টে বহুবার সতর্ক সংকেত পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এআই কি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলছে? এই ঘটনায় এখন বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই ব্যবহার করার সময় আরও সতর্কতা দরকার। না হলে ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।