আজকাল ওয়েবডেস্ক: বয়স, অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, মনের অসুখ হতে পারে যে কারও। মানসিক আঘাতের ফলাফল হতে পারে চরম এবং গুরুতর। কিন্তু হতাশা, অবসাদ-কে অনেকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না। মনের বিভিন্ন অজানা রহস্যই বিভিন্ন মানসিক অবস্থা এবং সঙ্কটের মূলে। যা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহস ও উদ্দীপনা যোগাবে এমনই এক বই 'অন্দরের ঘর বাইরের ঘর'। লেখক বিশিষ্ট মনোচিকিৎসক ডা. দেবাঞ্জন পান। 

আমরা যতই বাইরেটা সাজাই, অন্তর হয়ে থাকে অগোছালো। আসলে মনের অনেক রহস্যময় বিষয় নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। মনকে বোঝার বা জানার কিংবা তার হদিশ পাওয়ার সকলের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। এই নানা দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে মনের নানা আশ্চর্যজনক রহস্যও সামনে এলেও আজও মনের কত কিছুই না জানি অধরা! এমনই অজানা অনুভূতির সুলুক সন্ধান দেবে 'অন্দরের ঘর বাইরের ঘর-এক মনোবিদের সফর'। দীর্ঘদিন ধরে ডা. দেবাঞ্জন পানের নিরলস কাজের প্রতিফলন এই বই। যা সম্প্রতি কলকাতার ঐকতান সভাগৃহে প্রকাশনা সংস্থা ভাষা সংসদের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে।

বইটিতে অত্যন্ত বোধগম্য ভাষায় মনের ভাবনার নানা দিক, খুঁটিনাটির ব্যাখ্যা রয়েছে। 'জীবন এত ছোটো কেনে', 'মন কেমন গুরুর খোঁজে', 'বই বিনে'-এমনই নানা প্রশ্নের দর্শন, মনস্তত্ত্ব, স্নায়ুবিজ্ঞান ও মানসিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের এক অনবদ্য মেলবন্ধন ডা. দেবাঞ্জন পানের বইটি। শুধু তাই নয়, বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই-এর দাপটও বইতে ছোট ছোট আকারে উল্লেখ রয়েছে। 

বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক শঙ্করলাল ভট্টাচার্য এবং প্রচেত গুপ্ত ও শিশু বিশেষজ্ঞ ড. নির্মল ইন্দ্র। ডা.দেবাঞ্জন বলেন, "মনের প্রতিটি বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মস্তিষ্কের বড় ভূমিকা রয়েছে। এই বইয়ে মনকে বিজ্ঞানের আলোকে অর্থাৎ মনের সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের সম্পর্কের যোগসূত্র রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা ব্যক্তি মানুষ এবং সমাজিক মানুষ হিসাবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। "

প্রকাশনা সংস্থা ভাষা সংসদের কর্নধার ও সাহিত্যিক বিতস্তা ঘোষালের কথায়, "মন কীভাবে আমাদের বিভিন্ন স্নায়ু ও হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তা জানার মাধ্যম হতে পারে এই বই। কারণ মনকে ঘিরেই যাবতীয় সংকটের সূক্রপাত। " বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রানী ভট্টাচার্যের রবীন্দ্রসঙ্গীত ও লেখক দেবাঞ্জন পানের কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করে। সমস্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় দায়িত্বে ছিলেন জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী অদিতি চক্রবর্তী।