হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে বড়সড় সামরিক পদক্ষেপ নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিতে তারা অত্যাধুনিক ৫,০০০ পাউন্ড ওজনের ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বা বাঙ্কার বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছে। এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে।
2
9
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, “হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের উপকূল বরাবর অবস্থিত শক্তভাবে সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে সফলভাবে একাধিক ৫,০০০ পাউন্ডের ডিপ পেনিট্রেটর মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে।” এই ঘাঁটিগুলিতে থাকা ইরানি অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছিল বলে দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।
3
9
এই হামলার পটভূমিতে রয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়েছে।
4
9
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মিত্র দেশগুলির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ন্যাটো সদস্যরা হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তায় সাহায্য করতে অস্বীকার করায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা এত সাহায্য করার পরেও তারা পাশে দাঁড়াল না। অথচ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানো সবার স্বার্থেই জরুরি।”
5
9
তিনি আরও বলেন, সামান্য খরচে মাইনসুইপার পাঠানো সম্ভব ছিল, কিন্তু তাতেও আগ্রহ দেখায়নি মিত্ররা। “তারা সহজেই কয়েকটি মাইনসুইপার পাঠাতে পারত, এতে খুব বেশি খরচও হতো না।
6
9
তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে—বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না বলে বারবার জানিয়েছে।
7
9
এই সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। যদিও ট্রাম্প এখন এই যুদ্ধের দায় অনেকটাই নিজের সিদ্ধান্তের ওপর চাপিয়েছেন।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঙ্কার বাস্টার বোমা সাধারণত এমন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয় যা মাটির গভীরে বা শক্ত সুরক্ষার মধ্যে লুকিয়ে থাকে। প্রতিটি বোমার দাম প্রায় ২.৮৮ লক্ষ মার্কিন ডলার বলে জানা গেছে। তবে এগুলি এখনও সেই ৩০,০০০ পাউন্ডের বিশাল বোমার তুলনায় কম শক্তিশালী।
9
9
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এই সামরিক পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্বের অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি যে আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট।