বহু কাল ধরে মার্কিন ডলারের অঙ্গুলিহেলনে বিশ্বরাজনীতি চলেছে। কিন্তু এখন হাওয়া বদলাচ্ছে। অনেক দেশই চাইছে সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখতে। তাই ডলারের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে ভল্টে সোনা ভরার ধুম লেগেছে। একেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘ডি-ডলারাইজেশন’।
2
8
বাজারদর যখন চড়চড় করে বাড়ে, তখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সোনার চেয়ে বড় রক্ষাকবচ আর নেই। কাগজের নোটের দাম কমলেও সোনার জেল্লা কমে না, বরং বাড়ে।
3
8
বর্তমান বিশ্ব যেন বারুদের স্তূপ। যুদ্ধের বাজারে বিদেশি মুদ্রা বা বিদেশি ব্যাঙ্কের গচ্ছিত টাকা কখন যে হাতছাড়া হবে, তার ঠিক নেই। এমন ডামাডোলে সোনার মতো নিরাপদ আশ্রয় আর দ্বিতীয়টি নেই।
4
8
এর আগে যুদ্ধ আবহে দেখা গিয়েছে, এক দেশের সম্পদ অন্য দেশ আটকে দিচ্ছে। এই ‘ফ্রিজ’ হওয়ার ভয়টাই এখন তাড়া করছে অনেককে। নিজের দেশের মাটির নিচে সোনায় বিনিয়োগ থাকলে অন্তত অন্য দেশের মর্জির ওপর বেঁচে থাকতে হয় না।
5
8
একই সম্পদে সব পুঁজি রাখাটা বোকামি। শেয়ার বাজার বা বন্ডের কারবার কখন যে লাটে উঠবে, কেউ জানে না। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো তাদের ভাণ্ডারে বৈচিত্র্য আনছে। অর্থনীতিতে ধস নামলেও যেন সোনার ভাণ্ডার বুক দিয়ে আগলে রাখতে পারে।
6
8
সোনা হলো এমন এক সম্পদ যা পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তে গেলেই নগদ টাকায় বদলে নেওয়া যায়। চরম বিপদের দিনে যদি টাকার দরকার পড়ে, সোনা থাকলে আর চিন্তা নেই। একেই অর্থনীতির ভাষায় বলে 'লিকুইডিটি'।
7
8
যে দেশের রাজকোষে সোনার পাহাড় যত বড়, বিদেশের বাজারে সেই দেশের মান-সম্মান বা ক্রেডিট রেটিং তত বেশি। বিপদে-আপদে আন্তর্জাতিক বাজারে ধারদেনা পেতে গেলেও এই সোনার মজুতই 'পথ প্রদর্শক' হিসেবে কাজ করে।
8
8
সাধারণ মানুষের মনে দেশের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য সোনা এক ম্যাজিকের মতো কাজ করে। আমজনতা জানে, নোটের দাম কমলেও ভল্টে যদি সোনা থাকে, তবে দেশ অন্তত পুরোপুরি দেউলিয়া হবে না। এই বিশ্বাসটুকু ধরে রাখাই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর আসল লক্ষ্য।