স্মার্টফোনের নীল ছবিতে ফিকে হচ্ছে দাম্পত্যের আদর, একই ছাদের নিচে বাড়ছে ‘ডিজিটাল দূরত্ব’
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৯ মার্চ ২০২৬ ১৯ : ১৫
শেয়ার করুন
1
5
একই বিছানায় শুয়েও আজ বহু দম্পতি যেন দুটি আলাদা দ্বীপের বাসিন্দা। মাঝখানে কথা বলা বা ভালোবাসার বদলে জেগে আছে স্মার্টফোনের নীলচে আলো। আজকের ডিজিটাল যুগে এক অদৃশ্য দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে এই খুদে যন্ত্রটি, যা নিঃশব্দে কেড়ে নিচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের স্বাভাবিক উষ্ণতা।
2
5
সাম্প্রতিক সময়ে সমাজবিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘পার্টনার ফাবিং’ (Partner Phubbing), যেখানে জীবনসঙ্গীর উপস্থিতিকে উপেক্ষা করে মানুষ ফোনের স্ক্রিনেই বেশি মগ্ন থাকছে। অফিস থেকে ফেরার পর স্বামী চান স্ত্রীর সাথে দিনের ক্লান্তি ভাগ করে নিতে, আবার সারা দিন ঘর সামলানোর পর স্ত্রী চান স্বামীর একটু নিবিড় সান্নিধ্য। কিন্তু বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। দেখা যাচ্ছে, স্বামী হয়তো ইউটিউবের ভিডিওতে বুঁদ, আর স্ত্রী ব্যস্ত ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রামের রিলস স্ক্রল করতে। চোখে চোখ রাখার যে পুরনো অভ্যাস, তা আজ ফিকে হয়ে আসছে।
3
5
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সাজানো জীবন দেখে নিজের সঙ্গীর সঙ্গে তুলনা করার এক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। "অমুকের স্বামী তাকে হীরের আংটি দিল, আমার স্বামী কেন পারে না?"—এই ধরণের অবাস্তব প্রত্যাশা থেকে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী হতাশা। এই সমস্যার জন্য কেবল একজন নয়, দায়ী দুজনেই। অনেক সময় স্বামীরা অফিসের কাজের দোহাই দিয়ে বা নিছক বিনোদনের খোঁজে স্ত্রীর থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। ফলে স্ত্রী যখন সেজেগুজে অপেক্ষা করছেন বা কোনো কথা বলতে চাইছেন, তখন স্বামীর উদাসীনতা সম্পর্ককে তিক্ত করে তুলছে।
4
5
স্মার্টফোনের অ্যাপ বা হারিয়ে যাওয়া ডেটা রিকভার করা সম্ভব হলেও, ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগানো অতটা সহজ নয়। স্মার্টফোন বিনোদনের সঙ্গী হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই জীবনের প্রকৃত সঙ্গী নয়। তাই সম্পর্ক বাঁচাতে কাউন্সেলররা পরামর্শ দিচ্ছেন 'ডিজিটাল ডিটক্স'-এর। ডাইনিং টেবিল বা শোবার ঘরে অন্তত নির্দিষ্ট কিছু সময় ফোনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সঙ্গীর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা শুরু করলেই এই দেয়াল ভাঙা সম্ভব।
5
5
মনে রাখা জরুরি, হাজারো নোটিফিকেশনের টুঁ শব্দটির চেয়ে প্রিয় মানুষের একটি আন্তরিক ডাক অনেক বেশি দামী। দিনশেষে কোনও অ্যাপ নয়, পাশের মানুষটাই আপনার আসল পৃথিবী।