আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ঘটনায় শোকস্তব্ধ খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাস। তথ্য, মঙ্গলবার মদনমোহন মালব্য হল থেকে উদ্ধার হয়েছে চতুর্থ বর্ষের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সোহম হালদার (২২)-এর ঝুলন্ত দেহ। আইআইটি ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা সোহম ওই হলেই আবাসিক ছাত্র হিসেবে থাকতেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সম্প্রতি ক্যাম্পাসিংয়ে চাকরি না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে খাওয়াদাওয়ার পর নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। মঙ্গলবার সকালে দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় সহপাঠীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠছে ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও চাপের পরিস্থিতি নিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৬ মাসে এই নিয়ে মোট ৯ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে আইআইটি খড়্গপুরে। এর মধ্যে ৬ জনের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। তাছাড়াও একাধিক পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র দশ দিন আগেই অটলবিহারী হলের আটতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জয়বীর সিং দোদিয়ার। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নতুন করে ছাত্রমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই ছাত্রছাত্রীদের একাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিকাঠামো আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিযোগিতার চাপ, ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তা এবং একাকীত্ব এই তিনের মিলিত প্রভাবেই এমন ঘটনা বাড়ছে, যা রুখতে প্রয়োজন নিয়মিত কাউন্সেলিং ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি, আইআইটি কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণভাবে ঘটনার পর্যালোচনা শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।















