আজকাল ওয়েবডেস্ক: সই জালিয়াতি মামলায় আবারও রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। ভবানী ভবনে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জি। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজই দ্বিতীয়বার সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি। দুপুর বারোটা নাগাদ ভবানী ভবনে ঢোকার পর রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ সেখান থেকে বের হন অভিষেক। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই ম্যারাথন জেরার পরেও তদন্তকারীরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলেই সিআইডি সূত্রে খবর।
মামলার জট ছাড়াতে এবং বয়ানের ধোঁয়াশা দূর করতে আজ এক নাটকীয় মোড় দেখা যায়। বিকেলের দিকে ভবানী ভবনে তলব করা হয় তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। এরপর অভিষেক ব্যানার্জি ও কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেন সিআইডি আধিকারিকরা। বৈঠক বা রেজুলেশন বুকের সই সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে দুজনের বক্তব্য মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। ভবানী ভবন থেকে বেরনোর সময় কুণাল ঘোষ জানান, তাঁকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছিল এবং তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে তিনি কোনও অন্যায় করেননি, তাই সহযোগিতা করতে তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না।
তবে সিআইডি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সই জালিয়াতির আসল রহস্য উদ্ঘাটনে এখনও বেশ কিছু খামতি রয়ে গেছে। কোন পরিস্থিতিতে এবং কারা সেই রেজুলেশন বুকে সই করেছিলেন, সেই প্রশ্নের এখনও কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। এর আগের দফার জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও একই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছিল তদন্তকারীদের তরফে। ফলে সমস্ত প্রশ্নের সদুত্তর না মেলায় অভিষেক ব্যানার্জি আবারও তলব করা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, যদিও নতুন করে নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে সিআইডি এখনও সরকারিভাবে কিছু জানায়নি।
অভিষেকের এই দীর্ঘ জেরা এবং কুণাল ঘোষের মুখোমুখি বসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে জলঘোলা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন কলকাতায় সিআইডি দপ্তরে ম্যারাথন জেরা চলছে, ঠিক তখনই দিল্লিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের তৎপরতা এবং বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের খবর ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ শানাতে ছাড়ছে না, অন্যদিকে প্যানেল আলোচনায় বাম-কংগ্রেসের অতীত ইতিহাস টেনে পাল্টা রাজনৈতিক তরজায় মেতেছে সব পক্ষই। সব মিলিয়ে এই সই জালিয়াতি কাণ্ড আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।















