আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডের চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের ঘটনায়, ঘটনার দিন রাতের, নৈশভোজ থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত ঘটনাক্রম কী ছিল, তার তদন্ত হবে পুনরায়। আর সেই তদন্ত করতেই সিট গঠনের নির্দেশ। তিন সদস্যের সিট গঠন করার নির্দেশ। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ জুন। সঙ্গেই আদালত জানিয়েছে, ওই বিশেষ সময়ের ঘটনাক্রমের বাইরেও অন্যান্য ঘটনা নিয়ে যদি কোনও বিষয় খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেন তদন্তকারী আধিককারিকরা, তাঁরা তাও খতিয়ে দেখতে পারেন। 

 

এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন সিবিআই-এর উদ্দেশেও। জানতে চাওয়া হয়, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে চার্জশিট জমা দেওয়া, কিংবা তার পরবর্তীকালের তদন্তে, কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আদালত, কোন কোন তথ্য হাতে? সেসব নিয়েও। 

 

প্রশ্নের উত্তরে সিবিআর-এর আইনজীবী জানান, এই দীর্ঘ সময়কালে তাঁরা একাধিক কাজ করেছেন। কথা বলেছেন বহু মানুষের সঙ্গে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এখনও ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সিবিআই-কেও পুনরায় ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

 

বৃহস্পতিবারের আদালতের নির্দেশের পর, তদন্ত চালাবেন সিট-এর সদস্যরা। যার মাথায় থাকবেন, সিবিআর-এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তা। 

 

আরজি কর কাণ্ডের সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল নির্যাতিতার পরিবার। বৃহস্পতিবার শুনানিতে দুই বিচারপতির বেঞ্চ সিবিআইকে প্রশ্ন করেন যে, আরজি কর হাসপাতালে অপরাধের ঘটনাস্থল সিল খোলা হয়েছে কি না? উত্তরে সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, সেমিনার হল সিল করা রয়েছে। শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন আরজি কর কাণ্ডে সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা। 

 

আদালতের প্রশ্ন ছিল, সিবিআইয়ের মনে হয়নি তদন্তের স্বার্থে অন্য প্লেস সিল করা প্রয়োজন?  অন্য কোনও জায়গা সিল করেছেন? উত্তরে সীমা জানান যে, অন্য কোনও জায়গা সিল করা হয়নি। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, সেমিনার হলের পাশেই সন্দীপ ঘোষের চেম্বার রয়েছে, সেটিকে সিল করা হয়নি। এরপরেই ডিভিশন বেঞ্চ সেটিকেও সিল করার নির্দেশ দিয়েছে। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, দ্রুত ঘটনাস্থল সিল করুক সিবিআই।

 

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুন করা হয়। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। ঘটনায় সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দিনকয়েক এই মামলা থেকে সরিয়ে দাঁড়িয়েছে বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। এর কারণ হিসেবে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা জানান, রাজ্য সরকার আরজি কর মামলার জন্য একটি জুডিশিয়াল কমিটি গঠন করেছে। তাই মামলার শোনার আপাতত কোনও প্রয়োজন নেই। বিচারপতি মান্থার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যে ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবে সেখানেই শুনানি হওয়া উচিত।

রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ক্ষমতায় ফিরলে আরজি কর কাণ্ডে পুনরায় সিবিআই তদন্ত শুরু করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রচারে একই কথা বলেছিলেন। ক্ষমতায় এসে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের তিন আধিকারিক বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য। সোমবার মন্ত্রিসভার নতুন বৈঠকের পরে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের কমিশন গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সেই কমিটির চেয়ারপার্সন করা হয়েছে প্রাক্তন বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জি এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস দময়ন্তী সেনকে।