আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতা পুরসভার স্ক্যানারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির বাড়ি। তা নিয়ে জোর চর্চার মাঝেই, নাম উঠে এসেছিল সায়নী ঘোষেরও। কে এই অভিষেক ব্যানার্জি, কে এই সায়নী ঘোষ? তা নিয়ে রীতিমতো জোর চর্চা চলে রাজ্যে।
যদিও সায়নী ঘোষ আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি নন ওই সায়নী। তার পরেই ওই অভিষেক-সায়নীর যৌথ মালিকানার ঘরে পৌঁছেছিল কলকাতা পুরসভা। সেখানে অভিষেক ব্যানার্জি এবং সায়নী ঘোষ নামের দু'জনের উপস্থিতির বিষয়টি সমানে এসেছে। ঠিক তার পরেই ঘটনা প্রসঙ্গে ফের মুখ খুলেছেন সায়নী ঘোষ।
তাতে তিনি লিখেছেন, 'সত্যমেব জয়তে! ১৯বি ৭ ট্যাঙ্কস লেন, কলকাতা ৩০ ঠিকানার ফ্ল্যাটে পৌঁছে, কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের (কেএমসি) বিল্ডিং বিভাগের কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, ওই ফ্ল্যাটে একজন বেসরকারি কর্মচারী শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী, স্কুল শিক্ষিকা শ্রীমতী সায়ানী ঘোষ, তাঁদের দুই মেয়েকে নিয়ে বাস করতেন। ফ্ল্যাটটি তিন বছর আগে যৌথ মালিকানায় কেনা হয়েছিল এবং দম্পতি তার বৈধ কাগজপত্র দেখান। পরিদর্শন প্রক্রিয়ার সময় তাঁরা কেএমসি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় থানার সঙ্গে ধৈর্য সহকারে সহযোগিতা করলেও, জল্পনা এবং কুৎসা রটানোর প্রচারণায় তাঁরা গভীর হতাশা প্রকাশ করেন, তাঁদের পাশাপাশি সংসদ সদস্য শ্রী অভিষেক ব্যানার্জি এবং সায়ানী ঘোষও জনসমীক্ষার আওতায় এসেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ কাকতালীয়।
এই অপ্রয়োজনীয় মিডিয়া ট্রায়াল এবং পরবর্তীকালে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে হয়রানিকে দুই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির একটি স্পষ্ট ঘটনা বলে মনে হয়েছে, যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল তাঁদের ব্যক্তিগত এবং পেশাগত ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করা।'
এর আগে, বুধবার সায়নী একটি পোস্ট করে লেখেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সায়নী ঘোষ লিখেছেন, কয়েকটি ফরোয়ার্ড করা মেসেজ পেলাম যেখানে জনৈক অভিষেক ব্যানার্জি এবং সায়নী ঘোষের ১৯ডি সেভেন ট্যাঙ্কস রোড, কলকাতা ৭০০০৩০ ঠিকানায় যৌথ সম্পত্তির উল্লেখ করা আছে। কোনও মোবাইল নম্বর ছাড়াই এবং প্রেমিসেসের বানানও ভুল।
আমি জানি না এই সায়নী ঘোষ কে? তবে এটা নিশ্চিত, যে সায়নী ঘোষ একটি সাধারন পরিশীলিত মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে, যে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো রকম সম্পত্তির অধিকারী হয়নি, সে নয়।
আমি আমার কেন্দ্রের সমস্ত ভোটারদের এবং রাজ্যর সকল মানুষকে বলতে চাই, লোকসভা নির্বাচনের সময় আমার ঘোষিত এফিডেভিটে আমার আর্থিক অবস্থানের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখার জন্য। আপনারা অনায়াসেই সেই রেকর্ড দেখে নিতে পারেন, এবং সেই সঙ্গে যাঁরা কোনও রকম তথ্য প্রমাণ ছাড়া আমার মানহানি করার এই খেলা শুরু করেছেন তাঁদের উদ্দেশে বলি, খেলাটি এই মুহূর্তে বন্ধ করুন।
অনুগ্রহ করে জেনে রাখুন এই মিথ্যা অপবাদের সামনে আমি কোনওভাবেই নতি স্বীকার করব না এবং মিথ্যা খবর ছড়ানোর জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই 'ঘোষ' কোনও অন্যায় অপবাদের শিকার হয়ে, ভয় পেয়ে গুটিয়ে যেতে আসেনি। '
একেবারে শেষে রবিঠাকুরের 'চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির' উল্লেখ করে সায়নী লিখেছিলেন, 'পুনশ্চ: আমি কবিগুরুর দেশের মানুষ।'















