আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইন-কানুন কিংবা আদালতের কোনও  নির্দেশিকার তোয়াক্কা না করেই রেল কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাম নেতৃত্ব। রেলের এই স্বৈরাচারী ও বেআইনি বুলডোজার রাজনীতির প্রতিবাদে আগামী ৪ জুলাই কলকাতার রাজপথে এক বিশাল গণ-আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সমাজের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব স্তরের নাগরিকদের এই প্রতিবাদী মিছিলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বহরমপুরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন।

আগামী ৪ জুলাই শিয়ালদহ এবং হাওড়া স্টেশন—এই দুই প্রান্ত থেকে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের দুটি বিশাল মিছিল রওনা হবে পূর্ব রেলের সদর দপ্তর ফেয়ারলি প্লেসের উদ্দেশে। প্ল্যাটফর্মের হকারদের উচ্ছেদ করা, চলন্ত ট্রেনে হকারদের জরিমানার পরিমাণ একধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া, রেল বস্তি ভেঙে দেওয়া এবং হকারদের পুনর্বাসনের কোনও  ব্যবস্থা না করার প্রতিবাদেই এই যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই দিন হাওড়া ও শিয়ালদহের ডিআরএম অফিসের সামনে জমায়েত করার পর বিক্ষোভ মিছিল করে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে দাবিদাওয়া পেশ করা হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মানুষ নতুন কিছু গড়ার আশায় সরকারকে ক্ষমতায় বসায়, কিন্তু তারা গড়ার আগেই ভাঙার খেলায় মেতে উঠেছে। রেলের এই হকার উচ্ছেদ কেবল কয়েকটা মানুষের রুটি-রুজি কেড়ে নিচ্ছে না, এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিও। কারণ হকাররা যে সমস্ত জিনিসপত্র বিক্রি করেন, তার একটা বড় অংশ আসে গ্রামের সাধারণ উৎপাদকদের কাছ থেকে। ফলে এই সিদ্ধান্তের জেরে গ্রামীণ অর্থনীতিও বড়সড় ধাক্কা খাবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিবর্তে সরকার সাধারণ মানুষকে বেকারত্বের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ট্রেনের কামরায় সামান্য কিছু বিক্রি করতে গেলেও এখন চড়া হারে জরিমানা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।

রেলের এই চরম অত্যাচারের কারণে কাঁকিনাড়ার ঝালমুড়ি বিক্রেতা কার্তিক সাউয়ের আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনাটি উল্লেখ করে সেলিম বলেন, তাঁরা কোনওভাবেই এই চরম পথ বেছে নেওয়ার পক্ষে নন, বরং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার আসলে সাধারণ মানুষের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে বহুজাতিক সংস্থার বড় বড় শোরুম খোলার জায়গা করে দিতে চাইছে, যাতে আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েরা কেবল ডেলিভারি বয়ের কাজ করতে বাধ্য হয়। বিজেপি ও তৃণমূলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে বিজেপি বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েও রাখেনি, অন্যদিকে গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের মানুষ তৃণমূলের অন্যায় দেখছে। একসময় মানুষ দলীয় পতাকা ছাড়া প্রতিবাদ করতে চাইলেও, আজ তাঁরা লালঝান্ডা হাতে নিয়েই অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নামছেন, কারণ প্রতিবাদের আসল রঙই হল লাল।

আন্দোলনকারীদের 'ভাইরাস' বা উগ্র তকমা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সেলিম জানান, যারা হকের লড়াই লড়ছে বা শিক্ষার স্বার্থে সরব হচ্ছে, তাদের নানা বিশেষণে অপমান করা হচ্ছে। কিন্তু এই লড়াইয়ে জয়ী হতে গেলে সমস্ত জাত-পাত, ধর্ম ও ভাষার ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একজোট হতে হবে। আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও 'দিল্লির নির্দেশ' আছে বলে যেভাবে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙা হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। সরকারের উদ্দেশ্যে তাঁর পরামর্শ, সাধারণ মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই না কেড়ে বরং ডবল ইঞ্জিন সরকার নদী ভাঙন রোধে কাজ করুক এবং ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা বাড়াতে নজর দিক, যা মানুষের প্রকৃত উপকারে আসবে।