রিয়া পাত্র

টালা প্রত্যয়ের পুজোর শতবর্ষে দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। পুজোর থিমের নামকরণ করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এবছর ১০১ বছর। বিরাট পুজোর বিশাল আয়োজন। এক বছরের পুজো শেষ হতেই, শুরু হয়ে যায় পরের বছরের  পুজোর কাজ। কিন্তু মমতা জমানা শেষ হতেই টালার পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইতিমধ্যেই টালা প্রত্যয়ের পুজোর মাঠ থেকে খুলে ফেলা হয়েছে কাঠামো।

বৃহস্পতিবার, কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি বলেন, 'পুজো হবে। সঙ্গেই তিনি বলেন, 'বিজেপি পুজো আটকাবে এটা মূর্খামি ছাড়া হতে পারে না। পুজো ভাল করেই হবে। সবুজ ধ্বংস করেই নয়।' সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি বিধায়ক অভিযোগ তুলেছেন তালা প্রত্যয়ের  পুজোর অন্যতম কর্ণধার ধ্রুবজ্যোতি ওরফে শুভর বিরুদ্ধে। অথচ আগেই জানা গিয়েছিল, ১০১ বছরে টালা প্রত্যয়ের পুজোর থিম 'বাতাস'। প্রায় এক বছরের কাজ। পুজোর আগে হাতে মাত্র বাকি আর কয়েক মাস। এই পরিস্থিতিতে নিজের ভাবনা বাস্তবায়িত করবেন কীভাবে? আদৌ কী পুজো হবে সেভাবে, যেভাবে ভেবেছিলেন তিনি? কী বলছেন টালার পুজোর রূপকার শিল্পী ভবতোষ সুতার?


আজকাল ডট ইন ভবতোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, পুজো নিয়ে টালবাহানার মাঝেই। শিল্পী বলছেন, তিনি নিজেও জানেন না কিছুই। কীভাবে হবে পুজো? এই সময়ের মধ্যে কীভাবে তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব? একের পর এক প্রশ্নের অকপট উত্তর দিলেন। 

ভবতোষ জানান, তিনি টালা প্রত্যয়ের পুজোর মাঠে শেষ গিয়েছিলেন দোলের দিন। ব্যানার উদ্বোধনে। তারপর আর জাননি। জানান, 'ওটা খুব বড় একটা মাঠ। সেখানে পুজোর মূল কাজ শুরু হওয়ার আগে করা হয় সুপার স্ট্রাকচারের কাজ। আমার অরিকল্পনা মতোই সেই কাজ শুরু হয়েছিল।  তারপর পরিস্থিতি বদলে গিয়েছিল। সত্যি বলতে, কেবল টালার পুজো নয়, নানা পুজোতেই, বদলে এবার আসবে।'

কিন্তু মাঝপথে কাজ আটকে যাওয়ায়, ভবিষ্যৎ  কী এখন? এরপর কী? টালা প্রত্যয় কী কিছু জানিয়েছে তাঁকে? ভবতোষ বলছেন, 'টালা যে রেঞ্জের পুজো, তাতে যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে সবকিছু, সেখানে টালার পুজো, আমার ভাবনার বাস্তবায়নে আর করা সম্ভব নয় কখনওই। এখানে আমি আর নতুন করে কী জানতে চাইব। ওখানের জায়গা নিয়ে একটা জটিলতা চলছে। রাজনৈতিক বিষয় রয়েছে সেখানে। এতকিছু জটিলতার মাঝে, আমি আর কী বলব সেখানে?'

কিন্তু এই পুজো তাঁর পেশার জায়গা। রয়েছে বিশাল টিম। সেই সবকিছুর কী হবে? ভবতোষ জানাচ্ছেন, 'আমার বড় টিম রয়েছে ঠিক। তার সঙ্গে আমিও একজন শিল্পীও। কিন্তু পালাবদলের পর থেকে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমি আর কী বলব। কী জানতে চাইব? টালা আমাকে না বলেনি। কিন্তু এখন জটিলতা যদি তালা কাটিয়ে তোলেও, তাহলেও আমার ভাবনা মতো পুজো আমি করতে পারব না। টাকার বিষয় আসে, কিন্তু সেটাই তো শিল্পীর  কাছে বড় কথা নয়।  কিন্তু আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।' সঙ্গেই ভবতোষ বলছেন, প্রায় তিন দশক পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকার পর, কোথাও গিয়ে নিজের জন্য খানিক =টা 'ব্রেক' চাইছিলেন তিনি। টালার পুজোর অনিশ্চয়তা, সেই 'ব্রেক' দিচ্ছে তাঁকে।