আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এসএসকেএম হাসপাতালে বৈঠকে কড়া বার্তার পর তৎপর হয়ে উঠল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। সেই আবহেই গভীর রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সরেজমিনে পরিদর্শনে এলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম।
শনিবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং পরিষেবা খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্য সচিব।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শনিবার বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় হাসপাতাল পরিদর্শন করে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাস্থ্য সচিবের এই আকস্মিক সফর ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিবের এই পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের প্রিন্সিপাল মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, এমএসভিপি সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়, অতিরিক্ত সুপার-সহ একাধিক চিকিৎসক এবং হাসপাতালের শীর্ষ আধিকারিকরা।
মূলত হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চলছে কি না, রোগীরা সঠিক পরিষেবা পাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতেই তিনি বিভিন্ন বিভাগে যান। প্রথমে জরুরি বিভাগ এবং ট্রমা কেয়ার ইউনিট পরিদর্শন করেন নারায়ণ স্বরূপ নিগম। এরপর প্রসূতি বিভাগ, শিশু বিভাগ-সহ একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি।
শুধু পরিষেবার মানই নয়, হাসপাতালের দালালচক্রের সক্রিয়তা এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শনিবার স্বাস্থ্য সচিব রাজ্যের পাঁচটি বড় সরকারি হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিট করেন। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ছাড়াও তাঁর পরিদর্শনের তালিকায় ছিল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এবং এসএসকেএম হাসপাতাল-সহ রাজ্যের আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতাল।
এছাড়াও স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন হাসপাতালকে নতুন অ্যাম্বুল্যান্সও তুলে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব নিজেই সেই অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সূচনা করেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের একাংশের মতে, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা আরও উন্নত করতে এবং দালাল চক্রের রমরমা বন্ধ করতেই এই ধারাবাহিক পরিদর্শন চালানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার আচমকাই আরজিকর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলি। হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে নিরাপত্তার দিকটিও খুঁটিনাটি দেখেন তিনি।
এদিন আরজি কর হাসপাতালে এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে যান অভিজিৎ। সেখানে গিয়ে বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘আমি যে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, সেটি অভয়ার মৃত্যু মামলায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখনও ঘরটি তালাবন্ধ রয়েছে। অভয়ার মৃতদেহ যেখানে পাওয়া গিয়েছিল, এই ঘর দিয়েই সেখানে যাওয়া যায়। এগুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়নি। এটা সিবিআইয়ের গাফিলতি। আমি গিয়েছিলাম কারণ, তদন্তে সিবিআই-এর যিনি কর্তা ছিলেন, সীমা পাহুজা, দু'টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেননি। এই ঘরে ঢুকলেই সিবিআই আধিকারিকরা অনেক কিছু উদ্ধার করতে পারবেন। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। আমি সিবিআইকে অনুরোধ করব, এই ঘরের মধ্যে ঢুকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব খতিয়ে দেখা হোক।’
অভিজিৎ গাঙ্গুলি আরও বলেন, ‘একটা সিঁড়ি আছে, যে সিঁড়ি দিয়ে একটা ডেডবডি নামানো হয়েছিল, যেদিন অভয়া মারা যায়, খুন হয়, সেদিন রাতে। একজন নার্স সেই ভিডিও তুলেছিলেন। সেই ভিডিও সিবিআই-এর সীমা পাহুজা নিয়ে নেন এবং বলেন, ‘আপনি নিজের ভিডিওটা মুছে দিন। নইলে আপনি বিপদে পড়বেন।’
তিনি আরও বলেন, 'কে আর বিপদে পড়তে চায়? তিনি ভিডিওটা মুছে দেন, কপিটা দিয়ে দেন সিবিআই-এর সীমা পাহুজাকে। তার পর থেকে আর কখনও ভিডিওটা সর্বসমক্ষে আসেনি। আমি গোটা সিবিআই-কে দোষ দিচ্ছি না। আমি দোষ দেখছি নির্দিষ্ট ওই অফিসারের। তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে যুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।’















