আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি শিল্প অনুরাগী। তাঁর কবিতা আবৃত্তির বহু অনুরাগীও রয়েছেন। ভোটযুদ্ধ মিটতেই, কাজের ব্যস্ততার মাঝেও থিয়েটার দেখতে গেলেন শমীক ভট্টাচার্য। মঞ্চে তখন অভিনয় করছিলেন তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। আর দর্শক আসনে বসেছিলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে পালাবদলের পর এই মুহূর্তটি ঘিরেও শনিবার সন্ধ্যায় সাড়া পড়ল শহরে।
নাটক দেখার পর এদিন সমাজমাধ্যমে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য লেখেন, "শিল্পী এবং শিল্পসত্ত্বাকে খুন করার অধিকার কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা সরকারের নেই। নাটক নাটকের মতো চলবে।"

আজ 'আকাদেমি অফ ফাইন আর্টস'-এ কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জীবন নিয়ে একটি নাটক ছিল। সেই নাটকটি দেখতেই হাজির হন শমীক ভট্টাচার্য। আর সেই নাটকেই অভিনয় করেছেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক।
নাটক দেখার পরেও শমীক বলেন, "একজন শিল্পীর শিল্পকে খুন করার অধিকার কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নেই। কোনও রাজনৈতিক সত্ত্বার নেই। মতপ্রকাশের অধিকার ভারতের সংবিধান তাঁকে দিয়েছেন। নাটক নাটকের মতো চলবে। সরকারের সমালোচনা হবে। সরকারের বিচ্যুতিকে তুলে ধরে কেউ যদি নাটক লিখতে চান, কেউ যদি কবিতা লিখতে চান, সেই প্রবন্ধ লিখতে চান, আমার মনে হয়, যদি সেটাকে কেউ বাধা দেয়, তাহলে সেইদিনই এই দেশের, এই মাটির, এই সংস্কৃতির মৃত্যু নেমে আসবে।"
'আ-শক্তি' নাটকের নাট্যকার উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। অভিনয় করেছেন দেবশঙ্কর হালদারও। নাটক দেখার পর গ্রিন রুমে গিয়ে পার্থ ভৌমিক সহ বাকি অভিনেতাদেরও মুগ্ধতা জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য।
শক্তি চট্টোপাধ্যায় যে তাঁর প্রিয় কবি, তা একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক সভাতেও ভাষণের ফাঁকে ফাঁকে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার কয়েকটি লাইন তাঁকে বলতে শোনা গেছে। এমনকী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময়েও পানিহাটির সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ছবি উপহার দিয়েছিলেন শমীক। চিত্রশিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়ের আঁকা ছিল সেই ছবি।
টলিউডের 'ব্যান' কালচার প্রসঙ্গে দিন কয়েক আগেও শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "কে ছবি বানাবে, কার ছবি নন্দনে আগে মুক্তি পাবে, সেটাও কি অন্য কেউ ঠিক করবে? শিল্পীর মর্যাদা শিল্পীরাই রক্ষা করতে পারেন।"















