২০২৬ সালের বর্ষা মরশুম শুরু হওয়ার আগেই উদ্বেগ বাড়ছে দেশে। প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো পরিস্থিতি ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইএমডি। আবহাওয়াবিদদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এটি ১৯৯৭ ও ২০১৫ সালের ভয়াবহ এল নিনো চক্রের সমতুল্য হয়ে উঠতে পারে।
2
11
১৩ এপ্রিল প্রকাশিত আইএমডি-র পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। ভারতের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের বড় অংশই এই বর্ষার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষি ও জলসম্পদের উপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
3
11
এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি আবহাওয়াগত ঘটনা। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন ঘটে।
4
11
ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনো সাধারণত মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। তবে দক্ষিণ ও পূর্ব উপকূলের কিছু অংশে অতিবৃষ্টির প্রবণতাও বাড়ে।
5
11
বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে এল নিনোর প্রাথমিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের লা নিনা পরিস্থিতি থেকে এবার খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, যা আরও শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত দিতে পারে।
6
11
আইএমডি জানিয়েছে, এবছরের বর্ষায় বৃষ্টিপাত ৯২ শতাংশ হতে পারে। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী ভারতের দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ৮৭০ মিলিমিটার। ৯০ শতাংশের নিচে বৃষ্টিপাত হলে তাকে ঘাটতি বর্ষা ধরা হয়। এবছর সেই সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ, যা স্বাভাবিক ১৬ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
7
11
জুন মাস তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে এবং তখনই বৃষ্টির ঘাটতি হতে পারে।
8
11
সবচেয়ে বেশি সমস্যা রয়েছে উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলি। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থানে খরার আশঙ্কা প্রবল। পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর, উজ্জয়িনীর মতো এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে।
9
11
অন্যদিকে চেন্নাই ও উপকূলীয় তামিলনাড়ুতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। অতীতেও এল নিনো বছরে এই অঞ্চলে মারাত্মক জলাবদ্ধতা দেখা গিয়েছিল। দিল্লিতে তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
10
11
ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষক খরিফ চাষের জন্য সম্পূর্ণভাবে বর্ষার ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টির ঘাটতি হলে খাদ্যশস্য উৎপাদন, পানীয় জল ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। ২০১৫-১৬ সালের সুপার এল নিনো বছরে দেশে মাত্র ৮৬ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছিল, যার ফলে ব্যাপক খরা দেখা দেয়।
11
11
আইএমডি মে মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করবে। তখন এল নিনোর গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।