পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, টাকার দুর্বলতা এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় গত সপ্তাহে চাপে ছিল ভারতীয় শেয়ার বাজার। সপ্তাহের শেষ দিনে মুনাফা তুলতে ঝুঁকলেন বিনিয়োগকারীরা, যার জেরে নিম্নমুখী হয় দুই প্রধান সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি ফিফটি।
2
9
শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় সেনসেক্স ১৬১ পয়েন্ট বা ০.২১ শতাংশ কমে ৭৫,২৩৭.৯৯-এ শেষ হয়। অন্যদিকে নিফটি ৫০ সূচক ৪৬ পয়েন্ট বা ০.১৯ শতাংশ নেমে ২৩,৬৪৩.৫০-এ বন্ধ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার ঐতিহাসিক দুর্বলতাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
3
9
বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা মার্কিন-ইরান সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নতুন চাপ তৈরি করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়ে।
4
9
এতে আমদানি খরচ বাড়ে, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয় এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুদের নীতি নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ভারতীয় বাজারে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
5
9
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহেও বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে এবং ভারতীয় বাজারও তার বাইরে থাকবে না। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি আরও বাড়ে, তাহলে ব্যাংকিং, অটো, এফএমসিজি এবং বিমান পরিবহণের মতো খাতগুলিতে চাপ বাড়তে পারে।
6
9
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। কর্পোরেট আয়, সরকারি বিনিয়োগ এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাজারকে বড় পতন থেকে রক্ষা করতে পারে। যদিও স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
7
9
আগামী সপ্তাহে বাজারের দিক নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের ইঙ্গিত, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন এবং টাকার গতিপ্রকৃতি। এছাড়া দেশীয় মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত তথ্যও বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
8
9
বিশ্লেষকদের মতে, নিফটি ২৩,৫০০ স্তরের উপরে টিকে থাকতে পারলে বাজারে পুনরায় ক্রয় প্রবণতা দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে এই স্তরের নিচে নেমে গেলে আরও চাপ বাড়তে পারে। সেনসেক্সের ক্ষেত্রেও ৭৫ হাজার স্তরকে গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
9
9
সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহে ভারতীয় শেয়ার বাজারে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার আবহ বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তাই বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধাপে ধাপে বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন।