আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয় সুজিত বোসকে। রাতে আলাদাভাবে আর জিজ্ঞাসা বাদ করা হয়নি। এদিন সকালে আদালতে তোলার আগে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর হাসপাতালে।
তারপর তাঁকে নিয়ে যাওয়ার হয়েছে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। জানা গিয়েছে, ইডির পক্ষ থেকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। ঘটনায় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘পুরো দুর্নীতি হয়েছে। ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ মানুষের টাকা যারা চুরি করেছে তাদের শাস্তি দেওয়াটাই আসল। প্রশাসন সেই কাজ করবে। আইন তাদের শাস্তি দেবে।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে প্রথম পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি সামনে আসে। সেই সময় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী নিয়োগ এর মামলা চলছিল। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এখান থেকেই নাম উঠে এসেছিল ব্যবসায়ী অয়নশীলের।
এই অয়নশীলকে গ্রেপ্তার করে ইডি। এরপর ২০২২ সালেই এই অয়নশীলের সল্টলেকের বাড়িতে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তল্লাশি চালায় ইডি। সেই তল্লাশি অভিযানের সময় পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলা সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি পায় তার ফ্ল্যাটে।
সেই সূত্র ধরেই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলা শুরু হয়। ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। এরপর ২০২৫ এর ১০ অক্টোবর সুজিত বসুর অফিস, ছেলের রেস্তোরাঁ এবং তার ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি।
সুজিত বসুর ছেলে, মেয়ে, জামাই এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও তলব করেছিল ইডি। গত ১৭ নভেম্বর সুজিত বসুর জামাই হাজিরাও দিয়েছিলেন ইডি দপ্তরে। গত ৩ ডিসেম্বর সুজিত বসুর স্ত্রী ও মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে।
গত ১১ এপ্রিল সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্র বসু হাজিরা দেন ইডি দপ্তরে। প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে চলতি বছরেও একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। চলতি বছরে প্রথম ৬ এপ্রিল ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন সুজিত।
তারপর গত ৬ মে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সোমবার প্রথম তিনি হাজিরা দেন। তাঁকে এর আগে তিনবার তলব করেছিল ইডি।
নির্বাচনের কাছে ব্যস্ত থাকায় তিনি হাজিরা দিতে পারেননি। এর আগে ১ মে হাজিরা দিলে তাঁকে টানা ৯ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। সোমবার তিনি ফের ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে আসেন। তাঁকে প্রায় সাড়ে দশ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়।















