আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যেন কোনও ত্রুটি বা খামতি না থাকে। সোমবার রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে বৈঠকের পর কলকাতা পুলিশকে জরুরি নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

 

সোমবার বিকেলে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, আজ নবান্নে প্রথমবার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। এই বৈঠকে কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের তিনি জরুরি নির্দেশ দিয়ে বলেন, "মমতা ব্যানার্জি বর্ষীয়ান রাজনীতিক এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যেন খামতি না থাকে।" 

 

এরপর আজ বিকেলেই নির্দেশ জারি করে জানানো হয়েছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির জন্য বরাদ্দ বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী, এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধাও আর থাকছে না। 

 

এদিন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক নেতার ওপর যদি নির্দিষ্ট কোনও হামলার আশঙ্কা না থাকে, তবে অহেতুক করদাতার টাকা খরচ করে নিরাপত্তার বহর বাড়ানো হবে না। স্রেফ নিজের স্টেটাস দেখানোর জন্য সরকারি অর্থের অপচয় বরদাস্ত করা হবে না। এর ঠিক পরেই অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি হয়। 

 

প্রসঙ্গত, সোমবার নবান্নে পুলিশ শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, “পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বচ্ছ ও দক্ষ প্রশাসন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে।” তবে, অভিষেকের বিরাট নিরাপত্তা বহর প্রত্যাহার নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি তৃণমূল। 

 

প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জির নিরাপত্তা কমতে শুরু করেছিল। ভবানীপুরে হারের পরদিনই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা ব্যানার্জির বাড়ির সামনে থেকে গার্ডরেল উঠে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর মমতা ও অভিষেক ব্যানার্জির বাড়ি ও কার্যালয়ের সামনে থেকেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা পাকাপাকিভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। 

 

এরপর লালবাজারের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল, ৯, ক্যামাক স্ট্রিট, ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, এই তিন ঠিকানায় অতিরিক্ত বাহিনী আর মোতায়েন থাকবে না। রবীন্দ্রজয়ন্তীতে ঘরোয়া অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিরাপত্তা শিথিল হয়ে যাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। এরপরই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জরুরি নির্দেশ দিলেন কলকাতা পুলিশকে।