আজকাল ওয়েবডেস্কঃ রাজ্যে পালাবদলের ঠিক পরদিনই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও অফিস থেকে জেড প্লাস ক্যাটাগরির অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল কলকাতা পুলিশের স্ক্যানার ও মেটাল ডিটেক্টর। বাড়ির বাইরের স্থায়ী পুলিশ পোস্টও এখন কার্যত খাঁ-খাঁ করছে। এবার নবান্নে পা রেখেই আমলাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার বিকেলেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নতুন বিজেপি সরকার। আর এই নির্দেশের ফলে সরাসরি কোপ পড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশাল নিরাপত্তা বহরে। 

নবান্ন সূত্রে খবর, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বরাদ্দ 'জেড প্লাস' (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। সোমবার বিকেলে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে  বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক নেতার ওপর যদি নির্দিষ্ট কোনো হামলার আশঙ্কা না থাকে, তবে অহেতুক করদাতার টাকা খরচ করে নিরাপত্তার বহর বাড়ানো হবে না। স্রেফ নিজের স্টেটাস দেখানোর জন্য সরকারি অর্থের অপচয় বরদাস্ত করা হবে না। এর ঠিক পরেই অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি হয়। 

নবান্ন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিষেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পরই জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ম মেনে একজন সাংসদের যেমন নিরাপত্তা বরাদ্দ হওয়ার কথা, সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাই পাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, সোমবার নবান্নে পুলিশ শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, “পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বচ্ছ ও দক্ষ প্রশাসন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে।” তবে, অভিষেকের বিরাট নিরাপত্তা বহর প্রত্যাহার নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি তৃণমূল।