আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ইএনটি (ENT) ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফদের উপর হামলা ও হেনস্থার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার জেরে ইএনটি বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা জরুরি পরিষেবায় কাজ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২২ মার্চ রাত ১১টা ৩২ মিনিটে কয়েন গিলে ফেলা এক ৩ বছরের শিশুকে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৩ তারিখ রাত ১২টা ১০ মিনিটে তাকে ওয়ার্ডে আনা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া (GA)-এর নিয়ম অনুযায়ী অপারেশনের আগে রোগীকে অন্তত ৬ ঘণ্টা কিছু না খাওয়া বা না পান করা (nil per mouth) অবস্থায় রাখতে হয়। সেই অনুযায়ী অস্ত্রোপচার ভোর ৩টার জন্য নির্ধারিত ছিল। রোগীর পরিবার কলকাতা রাজাবাজারের বাসিন্দা বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর।
অভিযোগ, রোগীর বাবা এই নিয়ম মানতে অস্বীকার করে সঙ্গে সঙ্গে অপারেশনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। চিকিৎসকরা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং চিকিৎসকদের হুমকি দিতে থাকেন।
এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগে সুরক্ষা কর্মীদের ওপরে হামলা অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, রোগীর পক্ষ থেকে ৬-৭ জন মহিলা ওয়ার্ডে এসে রেসিডেন্ট ডাক্তার, নার্সিং স্টাফ এবং গ্রুপ-ডি কর্মীদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ জন পুরুষ হাসপাতালে ঢুকে ডিউটিতে থাকা নিরাপত্তারক্ষীর উপর শারীরিক হামলা চালায় এবং তার পোশাক ছিঁড়ে দেয়।
চিকিৎসকদের দাবি, ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশও হস্তক্ষেপ না করে নিরাপত্তারক্ষীকেই ক্ষমা চাইতে বলে বলে অভিযোগ। এমনটাই দাবি কর্মরত ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকদের।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইএনটি বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা ইমার্জেন্সি পরিষেবায় কাজ করবেন না। আপাতত তাদের কাজ তারা স্থগিত রাখছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের ENT বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছে পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি, কোন আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পুলিশ প্রশাসন। তাই যতক্ষণ না পুলিশ কোনও ভূমিকা বা পদক্ষেপ নেবে ততক্ষণ তারা এমার্জেন্সি কথা জরুরী বিভাগের ইএনটি বিভাগে কোনরকম চিকিৎসার কাজে তারা ফিরবে না।
